কুমিল্লার চান্দিনায় সাত বছরের এক কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগ উঠেছে সানাউল্লাহ মিয়াজী (৬০) নামে এক মুয়াজ্জিনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় মাতবররা সালিশ বসিয়ে অভিযুক্তকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। তবে জরিমানার পর মুয়াজ্জিন পালিয়ে গেলে ঘটনা থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে চান্দিনা থানায় মামলা করেছেন।
সোমবার রাতে সানাউল্লাহ মিয়াজীকে একমাত্র আসামি করে চান্দিনা থানায় মামলাটি করা হয়। এর আগে রোববার বিকালে উপজেলার শুহিলপুর ইউনিয়নের শালিখা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত সানাউল্লাহ মিয়াজী শালিখা গ্রামের মৃত তাজু মিয়াজীর ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গ্রামে চায়ের দোকান পরিচালনা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মা ও দাদা ধইঞ্চাখেতে কাজ করার সময় শিশুটিকে সানাউল্লাহর চায়ের দোকানের টেবিলে বসিয়ে রাখেন। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে দোকানে ও আশপাশে লোকজন না থাকার সুযোগে সানাউল্লাহ মিয়াজী শিশুটিকে বিস্কুট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে যৌন নিপীড়ন চালায়। পরে শিশুটি সেখান থেকে দৌড়ে এসে পরিবারকে বিষয়টি জানায়।
ভুক্তভোগী শিশুর চাচা সফিউল্লাহর অভিযোগ, ঘটনার দিন বিকালে অভিযুক্ত সানাউল্লাহ শিশুটির বাবার হাতে তিন হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি ভুলে যেতে বলেন। পরে শিশুর পরিবার স্থানীয় কয়েকজন মাতবরকে বিষয়টি জানায়। মাতবররা সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়ে সোমবার সকালে সালিশ বসিয়ে অভিযুক্ত সানাউল্লাহকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরিবারটি ওই সিদ্ধান্তে রাজি না হলেও ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবেন না—এমন শর্তে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
সালিশের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় মাতবর মো. মনির হোসেন মুন্সী বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় আমরা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি এবং জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে আইনগত প্রক্রিয়া ভিন্ন বিষয়, আমরা সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এতে কাউকে কোনো হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়নি।
চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, খবরের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করেছে। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।



