দুর্গাপূজার আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা ও সংঘাত-সহিংসতার ৩৪টি ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।
এসব ঘটনায় করা ১১টি মামলায় ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পরিষদ।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, 'নিরাপত্তা শুধু পূজার পাঁচ দিনের চিন্তা হতে পারে না। বছরের ৩৬৫ দিনই সবার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।'
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সম্প্রতি সিলেট, রাজবাড়ী, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় এসব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া, সুনামগঞ্জে হিন্দুদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও মন্দিরে হামলা ও লুটপাটের তথ্য তুলে ধরে পরিষদ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এ বছর বাংলাদেশে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে রয়েছে ২৫৮টি মণ্ডপ। গত বছ মণ্ডপ ছিল ২৬১টি।
পূজার সময় নিরাপত্তা রক্ষায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ২২ দফা নিরাপত্তা নির্দেশনা জারির কথা জানিয়েছে পূজা উদযাপন পরিষদ। এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে—সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবী মোতায়েন, সম্ভব হলে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো।
হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য সরকারি বরাদ্দ ১ কোটি টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে পরিষদ আবারও ট্রাস্টটিকে ‘ফাউন্ডেশনে’ রূপান্তরের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। একইসঙ্গে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য বছরজুড়ে নিরাপত্তা প্রদান এবং হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন এবং দুর্গাপূজায় তিন দিনের সরকারি ছুটির দাবিসহ তাদের ৮ দফা দাবি নতুন করে তুলে ধরা হয়।
আগামী ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গাপূজা।



