শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
২ঠা কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

পেঁপের পতন: ক্রেতার স্বস্তি, দিশেহারা কৃষক-ব্যবসায়ী

পেঁপের পতন: ক্রেতার স্বস্তি, দিশেহারা কৃষক-ব্যবসায়ী...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৫ এএমসর্বশেষ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৫ এএম
পেঁপের পতন: ক্রেতার স্বস্তি, দিশেহারা কৃষক-ব্যবসায়ী

রাজধানীর বাজারে কাঁচা পেঁপের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমেছে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪ থেকে ৫ টাকায়। গত এক সপ্তাহ ধরে বাজারে এই অবস্থা চলছে।

তবে পেঁপে দামের পতন নিম্ন আয়ের ক্রেতাদেরকে স্বস্তি দিয়েছে। মূল্যস্ফীতির বাজারে অন্য সবজির দাম বেশি থাকায় অনেকেই পেঁপের ওপর ঝুঁকছেন। ব্যবসায়ীরাও বলছেন, দাম কমায় বিক্রিও বেড়েছে। তবু সরবরাহ বেশি থাকায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক, আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত বছর খুচরা বাজারে কাঁচা পেঁপের কেজি সর্বোচ্চ ৮০ থেকে ১০০ টাকায় উঠেছিল। সেই আশায় এবার কৃষকদের বিপুল পরিমাণ দাদন দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা।

তারা জানান, কারওয়ান বাজারে মূলত চুয়াডাঙ্গা, যশোর, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজশাহী থেকে পেঁপে আসে। এবার বাড়তি দাদন দিয়েছিলেন তারা। ফলনও হয়েছে আশানুরূপ। আর এতে বাড়তি সরবরাহের বাজারে পেঁপের দামে ধস নেমেছে।

কাওরান বাজারের পেঁপের আড়তদার শের আলী পাঠান ৪৭ বছর ধরে এই ব্যবসা করছেন। গত বছরের লাভের আশায় এবার পাঁচটি জেলায় তিন কোটি টাকা দাদন দিয়েছিলেন তিনি। দাম পড়ে যাওয়ায় তিনি এখন দিশেহারা।

শের আলী বলেন, ‘গত কয়েক দিন ছয়-সাত টাকা কেজিতে পেঁপে বিক্রি করেছি। গত সোমবার দাম নেমেছিল চার টাকায়। অথচ চুয়াডাঙ্গা ও যশোর থেকে ঢাকায় পেঁপে আনতে পরিবহন খরচই পড়ে কেজিতে চার টাকার বেশি।

তিনি আরও বলেন, ‘তিন কোটি টাকা দাদন দিয়ে এখন ৫০ লাখ টাকা তুলতে পারব কি না, সন্দেহ আছে। ব্যাংকের ঋণ আর সুদের টাকা কীভাবে শোধ করব, বুঝতে পারছি না।

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থেকে তিন টন পেঁপে নিয়ে কাওরান বাজারে এসেছেন ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, জমি ভাড়া, বীজ, সার ও চাষের খরচ মিলিয়ে জমিতেই প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা খরচ হয়। বাজারে আনতে পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ আরও তিন টাকা। অর্থাৎ এক কেজি পেঁপে কারওয়ান বাজারে পৌঁছাতে খরচ প্রায় ১৩ থেকে ১৫ টাকা।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সেই পেঁপে বিক্রি করতে হয়েছে ৬ থেকে ৮ টাকায়। প্রতি কেজিতে অর্ধেকের বেশি লোকসান।

মূল্যস্ফীতির বাজারে কাঁচা পেঁপের এই দরপতন নিম্ন আয়ের মানুষ ও রাস্তার ধারের খাবারের দোকানগুলোর জন্য স্বস্তি নিয়ে এসেছে। রাজধানীর চার-পাঁচটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন সবজির কেজি ৫০ থেকে ১০০ টাকা। শিম, টমেটো ও গাজরের দাম ১৫০ থেকে ২২০ টাকা। এর মধ্যে পেঁপে একেবারে হাতের নাগালে।

শেওড়াপাড়ায় ছোট একটি হোটেলের মালিক আমির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়ায় রান্নার খরচ অনেক বেড়েছে। আগে সবজির তরকারিতে পটোল, বরবটি, শিম দিতেন। এখন খরচ কমাতে কাঁচা পেঁপে ও আলু দিয়ে ২০ টাকায় ভাজি বিক্রি করছেন। আগে দিনে ৫ কেজি পেঁপে লাগলেও এখন ২০ কেজি করে কিনছেন।

পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় ৩০ জনের মেসের খাবার সরবরাহ করেন রহিমা বেগম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাছ-মাংস, তেল, ডালসহ সবকিছুর দাম বেশি। বাজারে শুধু পেঁপে, লাউ আর আলু কিছুটা সস্তা। তাই প্রতিদিনের খাবারে পেঁপের ব্যবহার বাড়িয়েছি।

কাওরান বাজারে ৪৫ বছর ধরে সবজি বিক্রি করছেন মোশারফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার এত দিনের অভিজ্ঞতায় পেঁপের দাম এতটা কমতে দেখিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইংয়ের পরিচালক মো. হজরত আলী সাংবাদিকদের বলেন, এবার পেঁপের আবাদ ও উৎপাদন দুটিই বেড়েছে। অনেক জেলায় উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের পেঁপে চাষের বিস্তার ঘটেছে। বেশি জমিতে আবাদ ও ভালো ফলনের কারণে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ