কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। মামলায় রিসোর্টের মালিক তানভীর আহমদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া রিসোর্টের সহকারী ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকেও আসামি করা হয়েছে। তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে রিসোর্টের সহকারী ম্যানেজার সুমনকে আটক করা হয়। পরে তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তবে মামলায় মোট কতজনকে আসামি করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার হওয়া লাশগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, লাশের পরিচয় শনাক্ত এবং এ বিষয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। এর আগে লাশগুলো কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হবে।
অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জন একই পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয় বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বনশ্রীর বাসিন্দা মো. আশিকুল ইসলামের স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা ও শ্যালিকা লায়লা জাহান নাবিলাসহ পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বৃহস্পতিবার টুপটুপ রিসোর্টে বেড়াতে যান আশিকুল ইসলাম। সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সকাল ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।
উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বিজিবি, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা অংশ নেন। শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ১০ জনের লাশ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে।



