সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
৪ঠা কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাদকের অর্থ আদায়, প্রতিবাদ করায় মারধর

পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাদকের অর্থ আদায়, প্রতিবাদ করায় মারধর...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫:১৩ পিএমসর্বশেষ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫:১৩ পিএম
পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাদকের অর্থ আদায়, প্রতিবাদ করায় মারধর

ভৈরবে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে অর্থ আদায়ের প্রতিবাদ করায় কয়েকজনকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের মদদ দেওয়া ও পুলিশের সোর্স সেজে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে শ্রীনগর গ্রামের বুলবুল মিয়ার বিরুদ্ধে।

দীর্ঘদিন যাবত বুলবুল মিয়ার এমন কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকার মানুষ। গত (বুধবার) ১৪ অক্টোবর এমন এক ঘটনায় কয়েকজনকে সে মারধর করে। এ কারনে বুলবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নিতে এলাকার মানিক মিয়া মেম্বার সোমবার সকালে ভৈরব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, অভিযুক্ত বুলবুল এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার করতে নানা কৌশল ব্যবহার করেন। তার ভাই সেনাবাহিনীতে কর্মরত এবং এক নিকটাত্মীয় পুলিশের এসপি পদে রয়েছেন- এমন ভুয়া পরিচয় দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে রাখেন। মূলত পুলিশের সোর্স সেজে পুলিশের ভয় দেখিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিমাসে লাখ টাকা আদায় করা ও সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানী করা তার পেশা ও নেশা।

ইউনিয়ন যুবদল আহ্বায়ক জাকির হোসেন বলেন, বুলবুল দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা তুলছেন। অতীতেও তিনি বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের বাড়িতে পুলিশি হয়রানির নেপথ্যেও তার হাত রয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়।

তিনি আরও জানান, বুলবুল যেসব পুলিশের কথা বলে চাঁদার টাকা তোলেন সেইসব পুলিশ কখনো এসব জানেন না।

আরেক যুবদল নেতা শিপন মিয়া বলেন, মিথ্যার সুযোগে বুলবুল পুলিশের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকার মানুষকে হয়রানি করে যাচ্ছে । এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় গত ১৪ অক্টোবর বুলবুল কয়েকজনকে মারধর করে। এমনকি পুলিশকে খবর দিয়ে এলাকায় এনে মিথ্যা কথা বলে পুলিশকেও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল। পরে মানিক মেম্বারের সহযোগীতায় ঘটনাটি সমাধান হয়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, শ্রীনগর গ্রামে পুলিশ প্রবেশ করলেই বুলবুলের সঙ্গে প্রথমে যোগাযোগ করা হয় এমন গুঞ্জন রয়েছে মানুষের মুখে মুখে। তবে পুলিশ এসব কথা অস্বীকার করে।

আরও জানা যায়, পুলিশের অভিযানের আগাম বার্তা দিয়ে বুলবুল মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত টাকা পাঠানোর চাপ দেন। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে তাদেরকে মামলায় ফাঁসানো বা গ্রেফতারের ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। তার ভয়ে অনেকেই মাদক ব্যবসা না করলেও তাকে টাকা দিতে বাধ্য হয়।

এসকল অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত বুলবুল মিয়া বলেন, পুলিশ আমার গ্রামে ঢুকলে আমাকে ফোন দেয় এ কথাটি সত্য। তবে পুলিশের নামে চাঁদাবাজি বা টাকা তোলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য ও অভিযোগের বাদী মানিক মিয়া মেম্বার বলেন, বুলবুলের বিষয়ে পুরো গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ। সে থানা-পুলিশের সঙ্গে আতাত করে আসামি ছাড়িয়ে নেওয়া ও ধরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে। যদিও থানার ওসি এসব কথা অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, শ্রীনগর গ্রামের জনপ্রতিনিধিদের কোনোরকম তোয়াক্কা না করে বুলবুল তার আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে। মাদক কারবারিদের বিভিন্নভাবে সহায়তার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে বুলবুল। তার কারনে সারা গ্রামে মাদক ব্যবসা ছড়িয়ে গেছে। আমরা চাই বুলবুলকে আইনের আওতায় আনা হোক। একারনে আমি গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে সোমবার সকালে থানায় একটি অভিযোগ করেছি।

এ বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান অভিযোগের কথা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের কোনো সদস্যের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া বুলবুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ