মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
৫ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

টুপটুপ রিসোর্টের ওয়েবসাইটে ২ মালিক, মামলায় একজনকে আসামি

টুপটুপ রিসোর্টের ওয়েবসাইটে ২ মালিক, মামলায় একজনকে আসামি...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫১ পিএমসর্বশেষ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫১ পিএম
টুপটুপ রিসোর্টের ওয়েবসাইটে ২ মালিক, মামলায় একজনকে আসামি

কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে রিসোর্টের ওয়েবসাইটে মালিক হিসেবে দুইজনের নাম থাকলেও মামলার আসামি করা হয়েছে একজনকে।

রিসোর্টটির ওয়েবসাইটে মালিক হিসেবে তানভীর সুলতান মিয়া ও নিয়াজ মোরশেদের নাম রয়েছে। তবে মামলার এজাহারে শুধু তানভীরের নাম উল্লেখ করা হয়।

পুলিশ জানায়, অবহেলার কারণে মৃত্যু ও গুরুতর আহতের অভিযোগে করা মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, মামলায় আসামি হিসেবে রিসোর্টের মালিক মো. তানভীর সুলতান মিয়া, প্রধান ব্যবস্থাপক সাঈদ আহমেদ, ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সাঈদ এবং সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন সুমনের নাম রয়েছে। এর মধ্যে সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত ১৭ অক্টোবর উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশীষ সূত্রধর বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসআই রিমন ঘোষকে।

আরেক মালিককে আসামি না করার বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে একজনের নাম পেয়েছিলাম। এখন নিয়াজ মোরশেদ নামে আরেকজনের নাম সামনে আসছে। আরও তথ্য পাওয়া গেলে মামলায় নতুন নাম যুক্ত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সুমন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি মামলার চার নম্বর আসামি। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

রিসোর্টের অন্য মালিক নিয়াজের ঠিকানা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি ওসি আতিকুর রহমান।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। তার কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

ওসি আরও বলেন, আগুনে রিসোর্টটির কাগজপত্র পুড়ে যাওয়ায় ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করতে সমস্যা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে এসব নথি সংগ্রহের চেষ্টা করছে পুলিশ।

এদিকে, মামলায় আসামি নির্বাচন ও তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী সেজান আহসান।

তিনি বলেন, ঘটনাটিকে শুধু অবহেলার কারণে মৃত্যুর মামলা হিসেবে বিবেচনা করা যথেষ্ট কি না, তা আরও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। রিসোর্টটি নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না এবং অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিবেশবিষয়ক বিধিবিধান মানা হয়েছিল কি না, তা তদন্তে গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

সেজান আহসান বলেন, এত মানুষের মৃত্যুর পরও এজাহারে মালিকদের ভূমিকা স্পষ্ট করা হয়নি। একইসঙ্গে কর্মচারীদের দায়ও যথাযথভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। এজাহার পড়ে মনে হয়েছে, কর্মচারীদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে আসামি করা হতে পারে। অন্যদিকে, রিসোর্টটির মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। প্রকৃতপক্ষে কারা দায়ী, তা তদন্তে বের করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ জেনে-শুনে নিরাপত্তা ও লাইসেন্স-সংক্রান্ত নিয়ম ভেঙে থাকলে অভিযোগের ধরন আরও গুরুতর হতে পারে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড, তাদের জ্ঞান ও উদ্দেশ্য, অবহেলা এবং এসবের সঙ্গে মৃত্যুর ঘটনার সম্পর্ক, সবকিছু প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করতে হবে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ