শরীয়তপুরের জাজিরা থেকে ব্যবসার কাজে একসঙ্গে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন সাতজন। নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তাদের পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার বনপাড়া এলাকায় পাবনা-নাটোর মহাসড়কে রাজশাহীগামী আরপি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় মোট ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২০ জনের বেশি।
নিহত শরীয়তপুরের পাঁচ ব্যবসায়ী হলেন কাজীরহাটের রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দির জুয়েল মাদবর (৪০), ডুবিসায়বর মোল্যাকান্দির সালাল মোল্যা (৪৬), ডুবিসায়বর কাজীরহাটের সোহাগ শিকদার (৩০), কাজীরহাটের সামাদ ফকির (৭০) এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার শাহিন বেপারী (৩২)।
কাজীরহাট বণিক সমিতি ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহত এই পাঁচজন এবং আহত আলমগীর মাদবর ও ফয়সাল কাজীরহাট বাজারের কৃষিপণ্য ব্যবসায়ী। তারা একসঙ্গে মিলে ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়াসহ বিভিন্ন বীজ কেনার জন্য রাজশাহী যাচ্ছিলেন।
সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কাজীরহাটের এই সাতজন ব্যবসায়ী রাজশাহীর তাহেরপুরের উদ্দেশে রওনা হন। ফরিদপুরের ভাঙা বাসস্ট্যান্ড থেকে রাজশাহীর পথে রওনা হন তারা।
তিনি আরও বলেন, ‘জানতে পেরেছি, আমাদের পাঁচজন মারা গেছেন এবং দুজন আহত হয়েছেন। মরদেহ আনতে নাটোরের পথে রয়েছি। নিহতদের পরিবারের লোকজনও নাটোর যাচ্ছেন।
উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বলেন, ‘নাটোরে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সন্ধ্যা নাগাদ মরদেহ শরীয়তপুরে পৌঁছাতে পারে। এরপর কাজীরহাটে একসঙ্গে তাদের জানাজা হবে।
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছি। উপজেলা প্রশাসন নিহতদের পরিবারকে সহযোগিতা করবে।
এর আগে হাইওয়ে পুলিশের বগুড়া রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন জানান, বনপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ১২ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি তদন্তে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।



