উপজেলার রাজবাড়ী পাকারমাথা বাজার এলাকায় মন্থনা ছোটতরফ ও বড়তরফ দেবোত্তর এস্টেট পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
রংপুরের পীরগাছায় প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো ত্রি-বিগ্রহ মন্দির সংস্কারে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো সংরক্ষণ করতে হবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার রাজবাড়ী পাকারমাথা বাজার এলাকায় মন্থনা ছোটতরফ ও বড়তরফ দেবোত্তর এস্টেট পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, ত্রি-বিগ্রহ মন্দিরটি প্রায় ৪০০ বছর ধরে এ অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তবে দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরটি অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে বলে স্থানীয় মন্দির কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। মন্দিরটির সংস্কারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মেলার পরিবেশের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিভিন্ন বয়সি মানুষের উপস্থিতি, কেনাকাটা ও গ্রামীণ আবহে সেখানে সম্প্রীতির সুন্দর চিত্র ফুটে উঠেছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ হওয়া উচিত, যেখানে সব ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করতে পারবেন। কোনো মুসলমানের নামাজ আদায়ে কিংবা কোনো হিন্দুর পূজা উদ্যাপনে বাধা দেওয়া যাবে না। বরং প্রত্যেককে অন্যের ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় সহযোগিতা করতে হবে। হিন্দু, মুসলমান ও সাঁওতালসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দর কাউনিয়া-পীরগাছা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় এলাকার অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবায় দুটি উদ্যোগের কথাও জানান সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, কাউনিয়া ও পীরগাছার অনেক বয়স্ক মানুষ চোখের ছানিতে আক্রান্ত হলেও অর্থের অভাবে অস্ত্রোপচার করাতে পারেন না। তাদের বিনা মূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করতে একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং সংস্থাটি এতে সম্মতি দিয়েছে।
ছানিজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের তার সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে তাদের অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হবে।
এ ছাড়া জন্মগত ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা শিশুদের বিনা মূল্যে অস্ত্রোপচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়েও একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আখতার হোসেন বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকার অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চান তিনি। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবার দোয়া ও সহযোগিতাও কামনা করেন।
এ সময় উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তৌফিকুল ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও মন্দিরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



