বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬
৬ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

ছিনতাইয়ের পর মোটরসাইকেল বিক্রি করতে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন, কনস্টেবলসহ গ্রেপ্তার ৪

ছিনতাইয়ের পর মোটরসাইকেল বিক্রি করতে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন, কনস্টেবলসহ গ্রেপ্তার ৪...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ২:৩১ পিএমসর্বশেষ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ২:৩১ পিএম
ছিনতাইয়ের পর মোটরসাইকেল বিক্রি করতে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন, কনস্টেবলসহ গ্রেপ্তার ৪

চট্টগ্রাম নগরীতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক পুলিশ কনস্টেবলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরবর্তীতে আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনটি মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।

আজ বুধবার সকালে খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাসিমসংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন অনিক দাশ (২৭), ওয়াহিদ মোহাম্মদ জেবেল হোসেন ওরফে অনিক ওয়াহিদ (৩৯), মহিউদ্দিন সেলিম (৫২) ও ওয়াহেদ নাছির ওরফে ডায়মন্ড (৩৮)।

কনস্টেবল অনিক দাশ বান্দরবান পুলিশ লাইনস থেকে ক্রীড়া কোটায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত রয়েছেন, জানান নাসিম।

এর আগে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার পর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন মো. অপু (২২)। তার বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। কনস্টেবল আটক হওয়ার পর পুলিশ জিডিটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।

সেখানে অপু উল্লেখ করেছিলেন, গত ১৬ অক্টোবর রাতে অপু তার বন্ধুদের সঙ্গে তিনটি মোটরসাইকেলে নোয়াখালী থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। পরদিন রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রামের ফয়েজ লেক চক্ষু হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে একটি প্রাইভেটকার ও দুটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন তাদের পথরোধ করেন। ওই ব্যক্তিরা তাদের জিম্মি করে মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তারা প্রথমে অপুকে মারধর করেন, এরপর অস্ত্রের মুখে প্রাইভেটকারে তুলে নেন। তাদেরই একজন অপুর মোটরসাইকেল চালিয়ে নিয়ে চলে যান। রাত ৩টা পর্যন্ত ছিনতাইকারীরা তাকে প্রাইভেটকারে আটকে রাখেন এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে থাকেন। ভোররাতে তারা অপুর মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে শেরশাহ এলাকায় রাস্তার পাশে নামিয়ে দিয়ে চলে যান।

পুলিশ জানিয়েছে, চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে মোটরসাইকেলে ভ্রমণকারী ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ছিনতাই করতো চক্রটি।

নাসিম সাংবাদিকদের জানান, অনিক দাশ নামে এক ব্যক্তির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে মোটরসাইকেল বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখতে পান অপু। তিনি মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করে পাঁচ লাখ ৩০ হাজার টাকায় মোটরসাইকেলটি কেনার সমঝোতা করেন। নিজের পরিচয় গোপন রেখে অপু অগ্রিম পাঁচ হাজার টাকাও পাঠান।

‘অনিক বাইজিদ লিংক রোডের সামনে পুলিশ বক্সে অপুকে আসতে বলেন। সেখানে পৌঁছে অপু প্রথমে খুলশী থানাকে বিষয়টি জানান। এরপর পুলিশ অনিক দাশ আটক করে,’ বলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

তিনি আরও জানান, অনিকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাহাড়তলী থানার বিটাক বাজার এলাকা থেকে ওয়াহিদ ও মহিউদ্দিন সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, মোটরসাইকেলটি মোহাম্মদ ওয়াহেদ নাছির ওরফে ডায়মন্ডের হেফাজতে রয়েছে।

গতকাল ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে পাহাড়তলী থানার ফইল্যাতলী বাজার এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে পুলিশ মোটরসাইকেল উদ্ধার ও নাছিরকে গ্রেপ্তার করে।

নাসিম জানিয়েছেন, চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার ও ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

অপরাধে জড়িয়ে পড়া ওই পুলিশ সদস্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) জিনিয়া চাকমা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ