গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দলের মধ্যে আঁতাত ও অর্থ সরবরাহের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
মঙ্গলবার রাজশাহীর এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দলের একটি অংশ মিলে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বাইরে থেকে আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দলকে অর্থ দিচ্ছে, আর সেই দল দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।
এ অভিযোগের বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বক্তব্যের পক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু জনসভায় বক্তব্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ করার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সত্য হলে প্রশ্ন ওঠে, গোয়েন্দা তথ্য থাকার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন? আর বক্তব্যের সুনির্দিষ্ট ভিত্তি না থাকলে এমন স্পর্শকাতর অভিযোগ তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা কেন? প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।
বিবৃতিতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘গণভোটের রায় অমান্য করে এবং চব্বিশ-পরবর্তী জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার আওয়ামী ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম করছে।
তিনি বলেন, ‘একদিকে পতিত স্বৈরাচারের প্রত্যাবর্তনের আশঙ্কা তুলে ধরা হচ্ছে, অন্যদিকে তা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ উপেক্ষা করা হচ্ছে। নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানের দায় আড়াল করতে আঁতাতের অভিযোগ তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা সৎ রাজনীতি নয়।
জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে স্বৈরতন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার পথ বন্ধ করতে প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক সংস্কার জরুরি।
কিন্তু গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের পরিবর্তে সরকার জাতীয় ঐক্য দুর্বল করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ দ্বিমুখী অবস্থানের জবাব সরকারকে দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব।
প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আজ এক বিবৃতিতে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন, তা জানতে চায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারবিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা জানতে চাই, প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য থাকার পর কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, পতিত স্বৈরাচারের প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে স্বৈরতন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি রোধে প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা জরুরি ছিল। কিন্তু সরকার এর কোনোটিই করেনি।



