বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
৭ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

সাভারে নাকে অস্ত্রোপচারের সময় শিশুর মৃত্যু, ১০ লাখ টাকায় রফার অভিযোগ

সাভারে নাকে অস্ত্রোপচারের সময় শিশুর মৃত্যু, ১০ লাখ টাকায় রফার অভিযোগ...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৫৬ পিএমসর্বশেষ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৫৬ পিএম
সাভারে নাকে অস্ত্রোপচারের সময় শিশুর মৃত্যু, ১০ লাখ টাকায় রফার অভিযোগ

সাভারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নাকে অস্ত্রোপচারের সময় গতকাল বুধবার শিশুর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে প্রথমে হাসপাতাল ভাঙচুর করেন স্বজনেরা। পরে ১০ লাখ টাকায় শিশুটির পরিবারের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আপস করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাভার পৌর এলাকার উলাইলে আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া শিশুটির নাম আব্রাহাম (১১)। তার টনসিল ও নাকের পলিপাস অপারেশনের কথা ছিল।

শিশুটির মা কনা আক্তার ও স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই অদক্ষ চিকিৎসক ও নার্সরা অস্ত্রোপচার করেন। এ কারণেই আব্রাহামের মৃত্যু হয়। মৃত্যু ধামাচাপা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইসিইউর কথা বলে শিশুটিকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানকার চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটি আগেই মারা গেছে।

এই ঘটনায় গতকাল দুপুরে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভাঙচুর চালান।

একাধিক সূত্র জানায়, গতকাল রাতে সাভারের মুক্তির মোড়ে লন্ডনাস রেস্টুরেন্টে এই আপস-মীমাংসা হয়। রেস্টুরেন্টের মালিক ও সাবেক ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম এবং আবুল কালাম তাপস এতে মধ্যস্থতা করেন। ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি রফা হয়। এরপর রাতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ গ্রামে নিয়ে যায় পরিবার।

বৈঠকে উপস্থিত স্থানীয় সাংবাদিক শাহনাজ পারভীন জানান, দরকষাকষির পর সন্ধ্যায় শিশুটির পরিবার আপস করতে রাজি হয়। স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে শিশুটির মায়ের হাতে ১০ লাখ টাকা তুলে দেওয়া হয়।

আপসনামার স্ট্যাম্পে সাক্ষী হিসেবে সই করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক এস এ রশিদ। তিনি বলেন, ‘আমি শিশুটির এলাকার বাসিন্দা হিসেবে সেখানে ছিলাম। স্ট্যাম্পে টাকার অঙ্ক উল্লেখ আছে। শিশুটির মায়ের হাতে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

রেস্টুরেন্ট মালিক সাইফুল ইসলাম ও মধ্যস্থতাকারী তাপস আপসের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তারা টাকা লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। শিশুটির মা কনা আক্তারও টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘পরিবারকে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তারা রাজি হয়নি। ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নেওয়ার লিখিত আবেদন দিয়ে তারা লাশ নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালের মালিক ডা. মো. আব্বাস উদ্দিনের মুঠোফোনে কল ও মেসেজ পাঠালেও তিনি সাড়া দেননি।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ