বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
৭ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

খেলাধুলা

ক্রিকেটের সেরা ১০ অলরাউন্ডার, ব্যাটে-বলে যারা মাতিয়েছেন বিশ্ব

ক্রিকেটের সেরা ১০ অলরাউন্ডার, ব্যাটে-বলে যারা মাতিয়েছেন বিশ্ব...

ম
মোহাম্মদ আলী· ক্রীড়া সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭:০২ পিএমসর্বশেষ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭:০২ পিএম
ক্রিকেটের সেরা ১০ অলরাউন্ডার, ব্যাটে-বলে যারা মাতিয়েছেন বিশ্ব

ক্রিকেটে অলরাউন্ডার মানেই এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি ব্যাট হাতে দলের রান বাড়ানোর পাশাপাশি বল হাতেও প্রতিপক্ষের জন্য হয়ে ওঠেন বড় হুমকি। কখনো ব্যাট হাতে ম্যাচ জেতানো ইনিংস, কখনো বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট—দুই বিভাগেই সমান অবদান রাখার ক্ষমতাই একজন অলরাউন্ডারকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসে এমন অনেক তারকা এসেছেন, যারা নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন কিংবদন্তিদের তালিকায়।

গ্যারি সোবার্স থেকে জ্যাক ক্যালিস, ইমরান খান থেকে সাকিব আল হাসান—বিভিন্ন সময়ে নিজেদের দক্ষতা ও ধারাবাহিকতায় ক্রিকেটকে সমৃদ্ধ করেছেন তারা। পরিসংখ্যান, দীর্ঘদিনের পারফরম্যান্স, ম্যাচ জেতানোর সামর্থ্য ও ব্যাট-বলের ভারসাম্য বিবেচনায় ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ১০ অলরাউন্ডারকে নিয়ে এই আয়োজন।

ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে সর্বাগ্রে উচ্চারিত হয় স্যার গ্যারি সোবার্সের নাম। ব্যাট হাতে অসাধারণ ধারাবাহিকতা এবং বল হাতে একাধিক ধরনের বোলিং করার দক্ষতা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে। টেস্ট ক্রিকেটে ৯৩ ম্যাচে ৮ হাজার ৩২ রান করেছেন তিনি, ব্যাটিং গড় ৫৭.৭৮। পাশাপাশি শিকার করেছেন ২৩৫ উইকেট। বাঁহাতি স্পিন থেকে পেস—বিভিন্ন কৌশলে বল করার সক্ষমতা তাকে করে তুলেছিল এক বিরল প্রতিভা।

আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম পরিপূর্ণ অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস। ব্যাট হাতে ছিলেন নির্ভরযোগ্য, আর বল হাতে নিয়মিত উইকেট নেওয়ার ক্ষমতাও ছিল তার। টেস্টে ১৬৬ ম্যাচে ১৩ হাজার ২৮৯ রান ও ২৯২ উইকেট তার সামর্থ্যের প্রমাণ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা অলরাউন্ডারদের আলোচনায় শীর্ষ সারিতে রেখেছে।

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খান ছিলেন গতিময় বোলিং ও কার্যকর ব্যাটিংয়ের অসাধারণ সমন্বয়। টেস্টে ৮৮ ম্যাচে ৩ হাজার ৮০৭ রান করার পাশাপাশি নিয়েছেন ৩৬২ উইকেট। তার নেতৃত্বে পাকিস্তান ১৯৯২ সালে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতে। ব্যক্তিগত দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ার সামর্থ্য তাকে ক্রিকেটের অন্যতম প্রভাবশালী অলরাউন্ডারে পরিণত করেছে।

ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে ইয়ান বোথাম এক অনন্য নাম। আগ্রাসী ব্যাটিং, কার্যকর পেস বোলিং এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল তার বড় শক্তি। টেস্ট ক্রিকেটে ৫ হাজার ২০০ রান করার পাশাপাশি নিয়েছেন ৩৮৩ উইকেট। বিশেষ করে ১৯৮১ সালের অ্যাশেজে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে আজও স্মরণীয়। ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই ম্যাচ জেতানোর সামর্থ্য তাকে সর্বকালের সেরাদের কাতারে রেখেছে।

ভারতের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেব ছিলেন দুর্দান্ত পেস বোলিং অলরাউন্ডার। টেস্টে ১৩১ ম্যাচে ৫ হাজার ২৪৮ রান ও ৪৩৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ১৯৮৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বে ভারত শিরোপা জিতে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দেয়। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপে তার ১৭৫ রানের অপরাজিত ইনিংসটি ওয়ানডে ক্রিকেটের স্মরণীয় পারফরম্যান্সগুলোর একটি। ব্যাটিং, বোলিং ও নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে তার অবদান অসামান্য।

নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি রিচার্ড হ্যাডলি মূলত পেস বোলিংয়ের জন্য পরিচিত হলেও ব্যাট হাতেও ছিলেন কার্যকর। টেস্টে ৮৬ ম্যাচে ৩ হাজার ১২৪ রান করার পাশাপাশি নিয়েছেন ৪৩১ উইকেট। তার বোলিংয়ের নিয়ন্ত্রণ, সুইং এবং ধারাবাহিকতা তাকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর পেসারে পরিণত করেছিল। একই সঙ্গে ব্যাট হাতে প্রয়োজনীয় রান করার ক্ষমতা তাকে প্রকৃত অলরাউন্ডারদের তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে।

'বুম বুম' খ্যাত এই অলরাউন্ডার তার আগ্রাসী ব্যাটিং এবং লেগ স্পিন দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে ৮,০০০+ রান ও ৩৯৫টি উইকেট নিয়েছেন। পাকিস্তানের একাধিক ম্যাচ জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন তিনি। জাতীয় দল বাদেও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও ব্যাট-বল দুটো হাতেই মাঠ মাতিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে সাকিব আল হাসানের মতো প্রভাবশালী অলরাউন্ডার খুব কমই এসেছেন। বাঁহাতি ব্যাটিং ও বাঁহাতি স্পিন—দুই বিভাগেই দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিক ছিলেন তিনি। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে তার পারফরম্যান্স বাংলাদেশকে বহু গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিয়েছে। বিশেষ করে ২০১৯ বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে ৬০৬ রান এবং বল হাতে ১১ উইকেট নিয়ে তিনি নিজের সামর্থ্যের অসাধারণ প্রমাণ দেন। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ক্ষেত্রে সাকিবের অবদান উল্লেখযোগ্য।

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক শন পোলক ছিলেন নিয়ন্ত্রিত পেস বোলিং ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের নির্ভরযোগ্য সমন্বয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার শৃঙ্খলাপূর্ণ বোলিং প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করত। টেস্ট ও ওয়ানডে—দুই সংস্করণেই তিনি নিয়মিত উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি দলের প্রয়োজনে রান করেছেন। নেতৃত্ব, ধারাবাহিকতা এবং দলীয় সাফল্যে অবদানের কারণে সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের আলোচনায় তার নামও গুরুত্বপূর্ণ।

আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম আলোচিত অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। বাঁহাতি ব্যাটিং, ডানহাতি পেস বোলিং এবং অসাধারণ ফিল্ডিংয়ের মাধ্যমে তিনি বহুবার ইংল্যান্ডকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করেছেন। ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে তার গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস এবং একই বছরের অ্যাশেজে হেডিংলি টেস্টে অপরাজিত ১৩৫ রানের ইনিংস ক্রিকেট ইতিহাসের স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে। চাপের মধ্যে বড় পারফরম্যান্স দেওয়ার সামর্থ্য তাকে এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ক্রিকেটে অলরাউন্ডারের গুরুত্ব শুধু রান ও উইকেটের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। ম্যাচের কঠিন সময়ে দলের পাশে দাঁড়ানো, ব্যাটিং ও বোলিংয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করাই তাদের প্রকৃত পরিচয়। গ্যারি সোবার্সের বহুমুখিতা, ক্যালিসের ধারাবাহিকতা, ইমরান খানের নেতৃত্ব, কপিল দেবের বিশ্বকাপজয়ী অবদান কিংবা সাকিব আল হাসানের বিশ্বমঞ্চে সাফল্য—প্রত্যেকেই নিজ নিজ সময়ে ক্রিকেটকে সমৃদ্ধ করেছেন।

সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার কে, তা নিয়ে বিতর্ক চলতেই পারে। এই তালিকাটিও কোনো আনুষ্ঠানিক র‍্যাঙ্কিং নয়; কারণ খেলোয়াড়দের মূল্যায়ন নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে। তবে ব্যাট ও বল হাতে যারা যুগের পর যুগ ক্রিকেটপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছেন, তাদের অবদান ক্রিকেটের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মোহাম্মদ আলী

ক্রীড়া সংবাদদাতা

খেলাধুলা বিভাগের বিশেষ সংবাদদাতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ