পাবনায় একটি আবাসিক মহিলা মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ও পরিচালক আবু ইউসুফকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার সময় এক সহপাঠী দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের ডেকে এনে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসায় ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভাউডাঙ্গা কালুরপাড়া এলাকার ‘নুরে মদিনা আবাসিক মহিলা মাদ্রাসায়’ ওই ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে।
গ্রেফতার আবু ইউসুফ জেলার আতাইকুলা থানার খালিশপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে। তিনি ৫ বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ইসাই প্রামাণিকের কাছ থেকে ভবনটি ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসাটি পরিচালনা করতেন।
জানা গেছে, মাদ্রাসার ৬০ ছাত্রীর মধ্যে ৩০ জন সেখানে আবাসিক হিসেবে থাকত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মাদ্রাসার শিক্ষক ও পরিচালক আবু ইউসুফ চতুর্থ শ্রেণির ওই কোমলমতি শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক তার নিজের শয়নকক্ষে নিয়ে যান এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর এক সহপাঠী বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত বাইরে গিয়ে স্থানীয় লোকজনকে ডেকে আনে। পরে স্থানীয়রা এসে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্ত পরিচালককে আটকে রাখেন।
শুক্রবার সকালে এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা তাৎক্ষণিকভাবে মাদ্রাসায় চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আটকে রাখা অভিযুক্ত পরিচালককে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় ভুক্তভোগী মেয়েটিকেও থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চাচা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পাবনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অভিযুক্ত ইউসুফকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী মেয়েটিকেও আদালতে হাজির করে জবানবন্দি নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এর আগেও ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ও পরিচালকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় স্থানীয়ভাবে বিষয়গুলোকে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল।
এ ঘটনার জেরে মাদ্রাসার সব ছাত্রীকে অভিভাবকদের জিম্মায় দিয়ে প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।



