ঢালিউডের প্রিয়দর্শিনী অভিনেত্রী মৌসুমী দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরছেন। এতদিন গ্রিনকার্ডের জন্যই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন অভিনেত্রী। এবার দেশে ফেরার পালা। সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশে আসার কথা জানিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ তিন বছরের অপেক্ষার অবসান; অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সেই লক্ষ্য অর্জন করেছেন প্রিয়দর্শিনী। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি ‘গ্রিনকার্ড’ পেয়েছেন তিনি।
তবে বাংলাদেশে আসা-যাওয়ার পথ সহজ হলেও এখনই দেশে ফিরতে পারছেন না এ অভিনেত্রী। জানিয়েছেন অসুস্থ মায়ের দেখাশোনার দায়িত্বের কারণে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রেই থাকতে হচ্ছে তাকে। কবে দেশে ফিরবেন, আর ফিরলে অভিনয়ে নিয়মিত হবেন কিনা, তা নিয়ে কৌতূহল তার ভক্ত-অনুরাগীদের। কারণ দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের কারণে তাকে নিয়ে গুঞ্জনের ডালপালাও মেলেছিল বেশ। যদিও বরাবরই তিনি মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন। সেসব গুঞ্জনের কোনো উত্তর দেননি তিনি।
এর আগে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান নব্বইয়ের দশকের এ জনপ্রিয় অভিনেত্রী। সেখানে মেয়ে ফাইজার পড়াশোনার দেখভালের পাশাপাশি অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ও পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনুষ্ঠানে গ্রিনকার্ড পাওয়ার সুখবর জানিয়েছেন মৌসুমী। দীর্ঘদিন ধরে অনুমতির অপেক্ষায় থাকায় তার যাতায়াতে সীমাবদ্ধতা ছিল। নতুন এ অর্জনে সেই জটিলতা অনেকটাই কাটল বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে প্রবাসজীবনেও অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে থাকেননি মৌসুমী।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে ‘কন্ট্যাক্ট ম্যারেজ’ নামে একটি টেলিফিল্মে অভিনয় করেন মৌসুমী, যা পরে বাংলাদেশে সিনেমা হিসাবে মুক্তি পায়। কাজটি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছিল বেশ।
সেই সিনেমা প্রসঙ্গে প্রিয়দর্শিনী মৌসুমীর একটি অডিওবার্তা ফেসবুকে শেয়ার করে স্বামী অভিনেতা ওমর সানী জানিয়েছেন, এটি সিনেমার প্রজেক্ট হিসাবে কাজ করেননি অভিনেত্রী। তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। যদিও সিনেমাটির পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীরের দাবি ছিল— সব কিছু তিনি নিয়মানুযায়ী করেছেন। তবে মৌসুমীর সঙ্গে কোনো সিনেমার চুক্তিও দেখাতে পারেননি তিনি।
এদিকে মাসদুয়েক আগে মৌসুমী যুক্তরাষ্ট্রে আরও একটি প্রকল্পে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মঞ্চে গান গেয়েও দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছেন এ তারকা।
এদিকে সম্প্রতি মৌসুমীকে ঘিরে পারিবারিক একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে। দাবি করা হয়, ছেলে ফারদিন তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। তবে স্বামী অভিনেতা ওমর সানী এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জাবান, পরিবারের সম্মানহানির উদ্দেশ্যে এসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। পরে ফারদিনও ভিডিওবার্তায় মায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও যোগাযোগ থাকার কথা জানান। ওমর সানীও সামাজিক মাধ্যমে মাঝেমধ্যে মৌসুমীর সঙ্গে ভিডিওকলে কথা বলার মুহূর্ত প্রকাশ করেন।
মূলত মৌসুমী যুক্তরাষ্ট্রে, ছেলে ফারদিন দুবাইয়ে আর ওমর সানী বাংলাদেশে থাকায় পরিবারটির ভাঙন নিয়ে গুজবের ঢালপালা মেলেছিল। তবে নিজেদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় মৌসুমীর। এরপর ‘দোলা’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘মেঘলা আকাশ’, ‘দেবদাস’সহ বহু সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অবস্থান শক্ত করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনা ও প্রযোজনাতেও যুক্ত হয়েছেন আছেন অভিনেত্রী। ২০০৩ সালে ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ দিয়ে পরিচালনায় অভিষেক ঘটে তার। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় এবং পর্দায় স্বতন্ত্র উপস্থিতির কারণে দর্শকদের কাছে তার জনপ্রিয়তা এখনো অটুট।



