কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় বিসিআইসির নয়জন সার ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, নিয়োগ পাওয়া সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা, জেলা বিএনপির এক নেতার স্ত্রী ও মেয়ে। বাকিরা উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল এবং ছাত্রদলের নেতা।
জানা গেছে, রৌমারী উপজেলায় সার ডিলার হতে আবেদন করেছেন ১৪৫ জন এবং রাজিবপুরে ৫৫ জন। এর মধ্যে দুই উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে নয়জনকে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ডিলার নিয়োগে সরকারি নীতিমালা মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তালিকায় এক ইউনিয়নে আবেদন করলেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অন্য ইউনিয়নে। দু-একজন ছাড়া কারও নির্দিষ্ট গোডাউন নেই। ডিলার নিয়োগে এমন অনিয়ম ও চরম দলীয়করণের অভিযোগে এলাকায় ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ডিলার নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে মমতাজ হোসেনের প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স মমতাজ এন্টারপ্রাইজ। তিনি কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক। তাকে রৌমারী সদর ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার ঠিকানা দেখানো হয়েছে দক্ষিণ টাপুরচর, যা বন্দবেড় ইউনিয়নের আওতাধীন।
মো. আলমগীর হোসেনের প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজ। তিনি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসেমের ভাগিনা। তার নির্দিষ্ট কোনো গোডাউন নেই। নৌবন্দর আবাসিক হোটেল নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে গোডাউন হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাকে বন্দবেড় ইউনিয়নে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
হাসনা হেনার প্রতিষ্ঠানের নাম জমজম ট্রেডার্স। তিনি কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য ও কুড়িগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত আজিজুর রহমানের স্ত্রী। তাকে যাদুরচর ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মমতাজ হোসেন বলেন, বিএনপি নেতাদেরই তো দেওয়ার নিয়ম। তারা না পেলে কারা পাবে? এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারিভাবে নির্দেশনা রয়েছে বিএনপি নেতাদের ডিলারশিপ দেওয়ার।
জেলা বিএনপির সদস্য আজিজুর রহমান বলেন, দু-একজনকে দলের বাইরে থেকে দিলে ভালো হতো। সরকারি শর্ত সাপেক্ষেই আমার স্ত্রীর নামে ডিলার নিয়োগ হয়েছে।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল হাসান বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি ইউনিয়ন থেকে যাচাই-বাছাই শেষে তিনজনের নামের তালিকা পাঠিয়েছি।



