রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
১০ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

মতিঝিলে খরচ কম, তবু আগারগাঁও যেতে চায় বীমা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ

মতিঝিলে খরচ কম, তবু আগারগাঁও যেতে চায় বীমা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১:০৯ পিএমসর্বশেষ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১:০৯ পিএম
মতিঝিলে খরচ কম, তবু আগারগাঁও যেতে চায় বীমা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ

মতিঝিলে কম খরচে অফিস নেওয়ার সুযোগ থাকলেও আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবনে প্রধান কার্যালয় সরাতে চাইছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এতে সংস্থাটির বার্ষিক অফিস খরচ বাড়বে প্রায় ২ কোটি টাকা। অথচ দেশের বেশিরভাগ বিমা কোম্পানির প্রধান কার্যালয় মতিঝিল ও এর আশপাশে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) সচিবকে পাঠানো চিঠিতে কার্যালয় স্থানান্তরের অনুমোদন চেয়েছে আইডিআরএ।

চিঠিতে সংস্থাটি বলেছে, মতিঝিলের সাধারণ বীমা করপোরেশন টাওয়ারে বর্তমান কার্যালয়ে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো-বাতাস নেই। নিরাপত্তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে, কর্মপরিবেশও কাজের উপযোগী নয়।

আইডিআরএ জানিয়েছে, দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকার ৩৭/এ নম্বরের সাধারণ বীমা করপোরেশন টাওয়ারে ২০১৪ সাল থেকে তাদের কার্যালয়। তবে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ এখনো শেষ হয়নি।

সংস্থাটির ভাষ্য, বর্তমান কার্যালয়ের জায়গা, কর্মপরিবেশ, ভবিষ্যৎ প্রয়োজন এবং দায়িত্বের পরিধি বাড়ার কারণে আরও উপযুক্ত জায়গা দরকার। সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, আলো-বাতাস থাকবে এবং কাজ নির্বিঘ্নে চালানো সম্ভব হবে।

নতুন কার্যালয়ের খোঁজে ছয়টি ভবন পরিদর্শন করা হয়েছিল বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইডিআরএর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এর মধ্যে দুটি ভবন বাছাই করা হয়, মতিঝিলের দিলকুশা এলাকার সানমুন স্টার টাওয়ার এবং আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবন।

তবে সরকারের কাছে অনাপত্তিপত্র চাওয়া হয়েছে শুধু আইডিবি ভবনের জন্য। সেখানে গেলে বর্তমান কার্যালয় কিংবা মতিঝিলের সানমুন স্টারের ভবনটির তুলনায় খরচ অনেক বেশি হবে।

আইডিআরএর প্রস্তাব অনুযায়ী, সাধারণ বীমা করপোরেশন টাওয়ারে বর্তমানে কার্যালয়ের জন্য বছরে খরচ হয় ৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। মূল্য সংযোজন কর এই হিসাবের বাইরে।

সানমুন স্টার টাওয়ারে গেলে বার্ষিক খরচ কমে দাঁড়াবে ৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা। অন্যদিকে, আইডিবি ভবনে গেলে তা বেড়ে হবে ৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

অর্থাৎ, আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবনে স্থানান্তরিত হলে বর্তমানের তুলনায় বছরে ১ কোটি ৮১ লাখ টাকা বেশি খরচ হবে। সানমুন স্টার টাওয়ারের তুলনায় অতিরিক্ত খরচ হবে ২ কোটি ৫ লাখ টাকা।

আইডিআরএর চিঠিতে বলা হয়েছে, শুরুতে আইডিবি ভবন কর্তৃপক্ষ সব সুবিধাসহ প্রতি বর্গফুট জায়গার মাসিক ভাড়া চেয়েছিল ১৫১ টাকা ২৫ পয়সা।

এর বিপরীতে আইডিআরএ প্রতি বর্গফুটের ভাড়া ১১৮ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। ভবনের ১১তম, ১৫তম, ১৬তম ও ১৭তম তলা এবং নিচতলার একাংশ মিলিয়ে প্রায় ৩১ হাজার ৯৮৯ বর্গফুট জায়গার জন্য এ প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এর মধ্যে প্রতি বর্গফুটের মূল ভাড়া ৭৫ টাকা এবং ইউটিলিটি ও সেবা মাশুল ৪৩ টাকা। দর-কষাকষির পর সব খরচসহ প্রতি বর্গফুটের মাসিক ভাড়া ১৩০ টাকা নির্ধারণ করে আইডিবি ভবন কর্তৃপক্ষ।

আইডিআরএ বলেছে, জায়গার পরিমাণ, অবস্থান, সুযোগ-সুবিধা ও সার্বিক পরিচালন ব্যয় বিবেচনা করে ভাড়ার প্রস্তাবটি যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে নিরাপত্তা, পার্কিং, পানি ও পয়োনিষ্কাশন, কেন্দ্রীয় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং জেনারেটর চালানো ও মেরামতের খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমান কার্যালয়ে এসব সেবার জন্য আলাদা বিল দিতে হয়।

সংস্থাটির মতে, এসব সুবিধার পাশাপাশি ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের কারণে আইডিবি ভবনের প্রস্তাবটি বিবেচনার যোগ্য।

আগারগাঁওয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য অসুবিধার কথাও আইডিআরএ তাদের প্রস্তাবে উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বর্তমান কার্যালয়ের আশপাশে বিমা কোম্পানির আধিক্য।

প্রস্তাবে বলা হয়, দেশের ৮১টি বিমা কোম্পানির মধ্যে ৪৫টির প্রধান কার্যালয় মতিঝিল, পল্টন, কাকরাইল, দৈনিক বাংলা মোড় ও আশপাশের এলাকায়। আগারগাঁওয়ে কোনো বিমা কোম্পানির প্রধান কার্যালয় নেই। তবে কাছাকাছি এলাকায় প্রায় ৬টি কোম্পানির প্রধান কার্যালয় বা অফিস রয়েছে।

কার্যালয় স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কর্মীদের অসুবিধার বিষয়টিও প্রস্তাবে তুলে ধরা হয়েছে। আইডিআরএর বক্তব্য, অনেক কর্মী বর্তমান কার্যালয়ের অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে বাসা, সন্তানদের স্কুল এবং পারিবারিক ও সামাজিক জীবন গুছিয়েছেন। আগারগাঁওয়ে গেলে তাদের বাসা ও সন্তানদের স্কুল বদলাতে হতে পারে। নতুন করে সাজাতে হতে পারে পারিবারিক জীবনও।

এসব বিষয় উল্লেখ করার পরও তুলনামূলক কম খরচের সানমুন স্টার টাওয়ারের জন্য অনাপত্তিপত্র চায়নি আইডিআরএ। অথচ, সেখানে গেলে খরচ কম হতো এবং বেশিরভাগ বিমা কোম্পানির কাছাকাছি থাকা যেত।

অনাপত্তিপত্র না চাওয়ার তথ্য বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তাসংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করলেও, সানমুন স্টার টাওয়ারকে বাদ দেওয়ার কারণ তিনি ব্যাখ্যা করতে পারেননি।

আইডিবি ভবনের জন্য অনুমোদন চাওয়া হলেও সানমুন স্টার টাওয়ারের জন্য কেন চাওয়া হয়নি, তা জানতে আইডিআরএর চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিনকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি, মেসেজ পাঠালেও জবাব দেননি।

আইডিআরএর জনসংযোগ পরামর্শক সাদিক আরমান সাংবাদিকদের বলেন, ভালো কর্মপরিবেশ এবং আরও প্রশস্ত ও উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই কার্যালয় স্থানান্তরের মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, উন্নত কর্মপরিবেশ আইডিআরএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়াবে।

আগারগাঁওয়ে কার্যালয় স্থানান্তরের অনাপত্তিপত্রের আবেদনের বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ