রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
১০ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

ঢাবি ছাত্রকে ৩০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ হাইকোর্টের

ঢাবি ছাত্রকে ৩০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ হাইকোর্টের...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৭:১৩ পিএমসর্বশেষ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৭:১৩ পিএম
ঢাবি ছাত্রকে ৩০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ হাইকোর্টের

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসমিম মাহিদ চঞ্চলের জামিন আবেদন খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে আইন অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বিচারিক আদালত।

হাইকোর্টের বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। গত ১২ অক্টোবর রায়টি প্রকাশ করা হয়।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সজীব চন্দ্র বণিক। ভুক্তভোগীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শিকদার গুলজার আহমেদ। অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

মামলার এজাহার ও আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে ভুক্তভোগীর সঙ্গে তাসমিম মাহিদ চঞ্চলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধানমন্ডির একটি রেস্তোরাঁর স্মোকিং জোনে ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করেন তিনি। এ সময় গোপনে আপত্তিকর ছবি তুলে সেগুলো দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে ভুক্তভোগীকে সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধ্য করা হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট মধ্যরাতে আসামির প্রলোভনে ধানমন্ডির একটি হোটেলে যান ভুক্তভোগী। সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তাদের শারীরিক সম্পর্ক হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে আসামি ভুক্তভোগীকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। বিয়ের বিষয়ে কথা বললে তার পরিবার সম্পর্ক মেনে নেবে না বলে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে ওই বছরের ১৫ অক্টোবর আপস-মীমাংসার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও আসামি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।

এরপর ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ভুক্তভোগী।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় শারীরিক সম্পর্কের আলামত পাওয়া গেলেও তা সাম্প্রতিক বা জোরপূর্বক ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মেডিকেল বোর্ড ভুক্তভোগীর বয়স আনুমানিক ২০ বছর নির্ধারণ করে।

তদন্ত শেষে পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(খ) ধারায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার ষষ্ঠ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে।

চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল আসামি স্বেচ্ছায় বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার যুক্তিতে ট্রাইব্যুনাল তাকে ১০ মে পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। পরে ১০ মে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এরপর ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করলে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। চতুর্থ বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং আপস-মীমাংসার মৌখিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তাকে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।

তবে পরবর্তী শুনানিতে দেখা যায়, আসামির পরীক্ষা শেষ হলেও কোনো আপস-মীমাংসা হয়নি। এ অবস্থায় জামিন বহাল রাখার ভিত্তি না থাকায় গত ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তার জামিন আবেদন খারিজ করে রায় দেন।

রায়ে বলা হয়েছে, অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আসামিকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তা না হলে আইন অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বিচারিক আদালত।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ