রাজধানীর পূর্বাচলের পুলিশ হাউজিংয়ের একটি প্লটে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অভিযানে ২৬ নারীসহ ৮৫ জনকে গ্রেপ্তার ও সংক্ষিপ্ত বিচারে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ১০১ নাগরিক।
আজ রোববার তাদের সই করা এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে গ্রেপ্তারদের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ উত্থাপনের পাশাপাশি অবিলম্বে তাদের মুক্তি দাবি করা হয়।
একইসঙ্গে কাদের নির্দেশে, কী উদ্দেশ্যে ও কোন আইনি ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে, কারা গ্রেপ্তার ও দণ্ডাদেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এসব ক্ষেত্রে আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানানো হয়।
তদন্তে আইন লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান নাগরিকরা।
বিবৃতিতে বলা হয়, সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষার পরিবর্তে ‘মাদকবিরোধী অভিযানের’ নামে পুলিশ তাদের ছবি ও পরিচয় সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরছে। সংবাদমাধ্যমও অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই গ্রেপ্তারদের মাদকসেবী হিসেবে উপস্থাপন করে শনাক্তযোগ্য ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করছে।
এমন কর্মকাণ্ড ও প্রচার, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গোপনীয়তা, মর্যাদা ও ব্যক্তিগত উপাত্তের সুরক্ষায় গুরুতর হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে। এতে বলা হয়, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নাগরিককে সামাজিকভাবে হেয় করা কিংবা তার ব্যক্তিগত তথ্য নির্বিচারে প্রকাশের অনুমতি দেয় না। এটি সাংবাদিকতার নৈতিকতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মর্যাদা এবং ব্যাক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারের পরিপন্থী।
ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা এবং সংবাদমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান নাগরিকরা।
আরও বলা হয়, আইন প্রয়োগের অজুহাতে নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিকভাবে হেয় করার এই চর্চা ‘মোরাল পুলিশিং’ এরই প্রকাশ। সংবিধানের ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৫ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয়, ব্যক্তিস্বাধীনতা, গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে রক্ষাকবচ এবং বিচার ও দণ্ডের ক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। ৪৩ অনুচ্ছেদে নির্ধারিত সীমার মধ্যে গৃহে অনধিকার প্রবেশ ও তল্লাশির বিরুদ্ধেও সুরক্ষা রয়েছে। আইন প্রয়োগের প্রতিটি পর্যায়ে এসব সাংবিধানিক নিশ্চয়তা মানতে হবে।
১। ড. সামিনা লুৎফা, শিক্ষক ও নাট্যকর্মী।২। ফাহমিদুল হক, শিক্ষক ও লেখক।৩। শর্মি হোসেন, শিক্ষক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়।৪। ড. মোশাহিদা সুলতানা, সহযোগী অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।৫। নির্ণয় ইসলাম, শিক্ষক ও সংগঠক।৬। কামরুল হাসান মামুন, অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।৭। নাসির আহমেদ, অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।৮। আসিফ এম শাহান, অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।৯। প্রাপ্তি তাপসী, প্রভাষক, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়।১০। লায়েকা বশীর, শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মী।১১। মিথিলা মাহফুজ, শিক্ষক।১২। ফজিলা বানু লিলি, বিভাগীয় প্রধান, সমাজবিজ্ঞান ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি।১৩। ড. তাসলিমা ইয়াসমীন, শিক্ষক ও গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।১৪। ড. রুশাদ ফরিদী, শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।১৫। ড. তানজীমউদ্দিন খান, শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।১৬। ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা, অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।১৭। ড. কাজী জাহেদ ইকবাল, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।১৮। প্রিয়া আহসান চৌধুরী, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।১৯। নাফিউল আলম সুপ্ত, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী।২০। ফারান মোঃ আরাফ, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।২১। অনামিকা হক, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।২২। দিলরুবা শরমিন, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।২৩। মাঞ্জুর আল মতিন, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।২৪। আবেদা গুলরুখ, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।২৫। মোহাম্মদ আব্দুল হালিম, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।২৬। আবিদ হোসেন আনসারি, আইনজীবী।২৭। আব্দুল কাদের জিলানী, আইনজীবী।২৮। সারা হোসেন, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।২৯। ড. শরীফ ভূঁইয়া, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।৩০। আনিতা গাজী রহমান, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।৩১। বাধন অধিকারী, লেখক ও সাংবাদিক।৩২। রঞ্জন কুমার দে, সাংবাদিক।৩৩। সাদিক মাহবুব ইসলাম, সাংবাদিক।৩৪। রহমান মুফিজ, কবি ও সাংবাদিক।৩৫। সায়দিয়া গুলরুখ, সাংবাদিক ও গবেষক।৩৬। আনু মুহাম্মদ, সম্পাদক, সর্বজনকথা।৩৭। তানজিনা ইসলাম, গণমাধ্যমকর্মী।৩৮। মনোরম পলক, লেখক ও সাংবাদিক।৩৯। ড. ইমরান মতিন, উন্নয়ন গবেষক।৪০। অরুণিমা তাহসিন, গবেষক ও অ্যাক্টিভিস্ট।৪১। মীর হুযাইফা আল মামদূহ, গবেষক।৪২। আবু রায়হান, গবেষক ও অ্যাক্টিভিস্ট।৪৩। ফাহাদ বিন সিদ্দিক, গবেষক।৪৪। ইসাবা শুহ্রাত, গবেষক।৪৫। ড. তীব্র আলী, তাত্ত্বিক পদার্থবিদ ও লেখক।৪৬। নাদিরা নওশের, গবেষক ও উন্নয়নকর্মী।৪৭। আদিবা আফরোজ, গবেষক।৪৮। হাসনে আরা ডালিয়া, গবেষক ও নাট্যকর্মী।৪৯। নাফিসা রায়হানা, পিএইচডি গবেষক, জার্মান ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ মেট্রলজি।৫০। শাহেদ ইকবাল, চিকিৎসক, গবেষক ও অ্যাক্টিভিস্ট।৫১। তারান্নুম নিবিড়, গবেষক ও শিল্পী।৫২। মিম আরাফাত মানব, গবেষক।৫৩। নওশিন নূর, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী।৫৪। মোঃ জারিফ রহমান, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী।৫৫। শেখ মজিবুল হক, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী।৫৬। সুস্মিতা পৃথা, লেখক ও সংগঠক।৫৭। রেহনুমা আহমেদ, লেখক।৫৮। কল্লোল মোস্তফা, লেখক।৫৯। নাজিফা তাসনিম খানম তিশা, প্রকাশনা ও থিয়েটারকর্মী।৬০। সজীব তানভীর, স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা।৬১। ফারজানা ওয়াহদি সায়ান, সংগীতশিল্পী।৬২। কাজী তাহসিন আগাজ অপূর্ব, শিল্পী ও কিউরেটর।৬৩। ড. শহিদুল আলম, আলোকচিত্রী।৬৪। তাহমিনা ইয়াসমিন নীলা, সংস্কৃতিকর্মী।৬৫। শাহেলা আক্তার উমামা, শিল্পী।৬৬। মো. সাইফুল ইসলাম, মানবাধিকারকর্মী।৬৭। আব্দুল কাদির, মানবাধিকারকর্মী।৬৮। তাসাফফী হোসেন, মানবাধিকারকর্মী।৬৯। জয়া সিকদার, মানবাধিকারকর্মী।৭০। দূর্দানা ফরিদ, উন্নয়নকর্মী।৭১। সামিনা ইয়াসমিন, মানবাধিকারকর্মী।৭২। নাদিয়া নওশের, মানবাধিকারকর্মী।৭৩। ইজাজুল ইসলাম, মানবাধিকারকর্মী।৭৪। ওয়ারদা আশরাফ, উন্নয়ন ও সংস্কৃতিকর্মী।৭৫। মোশফিকুর রহমান জোহান, মানবাধিকারকর্মী ও আলোকচিত্রী।৭৬। আমিনা সুলতানা, মানবাধিকারকর্মী।৭৭। নূর খান লিটন, মানবাধিকারকর্মী।৭৮। সুমাইয়া ইসলাম, অ্যাক্টিভিস্ট ও মানবাধিকারকর্মী।৭৯। মারজিয়া প্রভা, সদস্য, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।৮০। সুরাইয়া ইয়াসমিন পলি, সদস্য, রেড ফেমিনিস্ট ব্লক।৮১। ফেরদৌস আরা রুমী, মুখপাত্র, এনপিএ।৮২। সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।৮৩। তৃষিয়া নাশতারান, নারীবাদী সংগঠক ও ফিউচারিস্ট।৮৪। সুলতানা বেগম, প্রেসিডেন্ট, গ্রীণ বাংলাদেশ গার্মেন্টস ওয়ার্কাস ফেডারেশন।৮৫। ফাহিম মাশরুর, ভয়েস ফর রিফর্ম।৮৬। স্কাইয়া ইসলাম, কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল।৮৭। মনীষা ওয়াহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।৮৮। জাকিয়া শিশির, আহ্বায়ক, অগ্রযাত্রা নারী ফোরাম।৮৯। ড. সফিকুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক, ব্রেইন।৯০। মাহবুবা কামাল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ইন্টারন্যাশনাল ল।৯১। আনিকা টি করিম, পরিচালক, বহ্নিশিখা।৯২। মেহনাজ রহমান, বহ্নিশিখা।৯৩। কলি আখতার, সভাপতি, এমপাওয়ারিং আওয়ার ফাইটার্স।৯৪। রুবাইয়া আহমেদ, প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন, অভয়ারণ্য।৯৫। রুকসাত আলম, বহ্নিশিখা।৯৬। নাশিতা শরীফ, বহ্নিশিখা।৯৭। নাফিস ফুয়াদ, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার।৯৮। নিউ নকরেক, বহ্নিশিখা৯৯। শামসুল হুদা, নির্বাহী পরিচালক, এএলআরডি।১০০। খুশী কবির, নারীবাদী ও মানবাধিকারকর্মী; সমন্বয়কারী, নিজেরা করি।১০১। ড. ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।



