রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
১০ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

রাশিয়ায় চাকরির নামে যুদ্ধে বিক্রি, মৃত্যুর খবরে রাজুর বাড়িতে আহাজারি

রাশিয়ায় চাকরির নামে যুদ্ধে বিক্রি, মৃত্যুর খবরে রাজুর বাড়িতে আহাজারি...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৯ পিএমসর্বশেষ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
রাশিয়ায় চাকরির নামে যুদ্ধে বিক্রি, মৃত্যুর খবরে রাজুর বাড়িতে আহাজারি

রাশিয়ায় মেকানিক্যাল শ্রমিকের চাকরি করে সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন ছিল রাজু মাতুব্বরের (২৮)। সেই আশায় গত ৮ মে দেশ ছাড়েন তিনি; কিন্তু চাকরির পরিবর্তে তাকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে। তবে তার মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রাজু ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের মাঝিকান্দা গ্রামের নান্নু মাতুব্বরের ছেলে। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে পরিবারে চলছে আহাজারি। আড়াই বছরের ছেলে ও এক বছরের মেয়েকে নিয়ে দিশেহারা স্ত্রী শারমিন আক্তার। ছেলের ছবি হাতে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বাবা নান্নু মাতুব্বর ও মা রাজিয়া বেগম।

রাজুর পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী কফাইবালিয়া গ্রামের প্রিন্স মাতুব্বর ও তার ছোট ভাই রানার মাধ্যমে সাড়ে ১৪ লাখ টাকায় রাজুকে রাশিয়ায় পাঠানোর চুক্তি হয়। এর মধ্যে সাড়ে চার লাখ টাকা নগদ পরিশোধ করা হয়। বাকি ১০ লাখ টাকা রাশিয়ায় পৌঁছার পর দেওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি পাননি রাজু। পরিবারের দাবি, তাকে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রিন্স ও রানাকে দায়ী করছেন রাজুর স্বজনরা। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রাজুর বাবা নান্নু মাতুব্বর জানান, ভালো চাকরির আশায় ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর খবর পান। এখন ছেলের মৃত্যুর খবর শুনছেন। তিনি ছেলের প্রকৃত অবস্থা জানতে চান। একই সঙ্গে এ ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ফেসবুকে রাতুল নামের এক যুবকের প্রকাশ করা একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে রাজু মারা গেছেন বলে দাবি করেন রাতুল। পাশাপাশি ভিডিওটি বেশি বেশি শেয়ার করার আহ্বান জানান তিনি।

রাজুর ছোট ভাই রাজন মাতুব্বর জানান, ভিডিওটি দেখার পর পরিবারের সদস্যরা রাতুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন রাতুলও রাজুর মৃত্যুর কথা জানান। তবে কিভাবে, কখন বা কোথায় রাজু মারা গেছেন, সেই বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি তারা।

এদিকে রাজুর মৃত্যুর খবরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ফলে তিনি জীবিত আছেন, নাকি মারা গেছেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

রাজুর স্ত্রী শারমিন আক্তার দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বাবার সঙ্গে কী ঘটেছে, তা বোঝার বয়স হয়নি সন্তানদের। স্বামীর প্রকৃত অবস্থা জানতে চান শারমিন। তিনি স্বামীকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানানোর পাশাপাশি এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।

রাজুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার বাড়িতে ভিড় করছেন প্রতিবেশী ও স্বজনরা। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মৃত্যুর খবর সত্য হলে রাজুর লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপও চেয়েছেন তারা।

তবে রাজুর পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্রিন্স মাতুব্বরের ছোট ভাই রানা। তার দাবি, রাশিয়ায় যাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে রাজুকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল।

রাজু নিজেই রাশিয়ায় অবস্থানরত প্রিন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখানে যান। তাকে প্রতারণা করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন রানা।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রিন্স মাতুব্বরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল ফাহাদ জানান, বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। রাজুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে রাজুর প্রকৃত অবস্থা জানতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর হস্তক্ষেপ চেয়েছে পরিবার। তাদের দাবি, রাজু বেঁচে থাকলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। আর মৃত্যুর খবর সত্য হলে লাশ দেশে ফেরানোর পাশাপাশি চাকরির প্রলোভনে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগের তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ছেলের মৃত্যুর খবর শুনলেও এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি নান্নু মাতুব্বর ও রাজিয়া বেগম।

রাজুর দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে অপেক্ষায় আছেন স্ত্রী শারমিন আক্তার। পরিবারের সদস্যরা এখন শুধু জানতে চান, রাজু কোথায় আছেন, কী অবস্থায় আছেন।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ