গাজীপুরের টঙ্গীতে ৮ বছর বয়সি শিশুকে যৌন নির্যাতনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জেলার সদর উপজেলায় এক মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা ৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন ওই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর বাবা।
মামলায় গাজীপুর সদর উপজেলার বিকেবাড়ি সিকদার মার্কেট সংলগ্ন দারুল মা’আরিফ হোসাইনিয়া (কওমি) মাদ্রাসা ও মারকাযুল কুরআন আদর্শ মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে (২৯) প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলায় অন্যান্য আসামিরা হলেন- আরিফুল ইসলামের ভাই বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ি এলাকার ফারুক হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া শরীফ মিয়া (৩৫), বাবা সেলিম মিয়া (৫৫), মা রহিমা খাতুন (৪০) ও পিরুজালী বর্তাপাড়া এলাকার জাফরের বাড়ির ভাড়াটিয়া দেলোয়ার হোসেন (৪৫)। তাদের সবার বাড়ি ময়মনসিংহ সদর থানার চর বওলা গ্রামে।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থী মারকাযুল কুরআন আদর্শ মহিলা মাদ্রসায় অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল। ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম ওই ছাত্রীকে প্রেম প্রস্তাবসহ নানা বিষয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। ছাত্রী প্রেম প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে জোর পূর্বক অপহরণের হুমকি দিতে থাকে। বিষয়টি ছাত্রী তার পরিবারকে জানালে মেয়েকে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শসহ শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে এ ধরনের কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই মাদ্রাসা শিক্ষক বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি অব্যাহত রাখে। এর প্রেক্ষিত্রে গত ১০ অক্টোবর সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পর শিক্ষক আরিফুল ইসলাম তার ভাই শরীফ মিয়া, বাবা সেলিম মিয়া, মা রহিমা খাতুন ও দেলোয়ার হোসেনের সহযোগিতায় অপহরণ করে নিয়ে যায়। বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জানার পর তার বাবা বিভিন্ন জায়গাতে খোঁজাখুঁজি করে মেয়েকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে।
জয়দেবপুর থানার ওসি আল মামুন জানান, শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকসহ অন্য আসামিদের গ্রেফতার অভিযান চলছে।



