বিতর্কের কারণে আপাতত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এবার হচ্ছে না। কিন্তু বিপিএল না হলে ঘরোয়া ক্রিকেটাররা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই টি-টোয়েন্টি, ৫০ ওভার আর চার দিনের ম্যাচের একটি প্রতিযোগিতাকে একই কাঠামোর আওতায় এনে ‘ডোমেস্টিক থ্রি’ বা ‘ডি-থ্রি’ ট্রফি চালু করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
ঘরোয়া ক্রিকেটের আকর্ষণ বাড়ানো, ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতাটিকে আরও পেশাদার করে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর নতুন এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানান, ঘরোয়া ক্রিকেটের হারানো আকর্ষণ ফিরিয়ে আনতে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতেই এই উদ্যোগ। বোর্ডের কাছে ঘরোয়া ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া ছিল উদ্বেগের বিষয়। নতুন কাঠামোর মাধ্যমে সেই পরিস্থিতি বদলাতে চায় বিসিবি।
ডি-থ্রি ট্রফির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, আগে আলাদাভাবে আয়োজিত তিনটি প্রতিযোগিতা এখন একই কাঠামোর অধীনে আসছে। ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি সংস্করণ এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) চার দিনের ও এক দিনের ম্যাচের প্রতিযোগিতা এই নতুন কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।
তিন সংস্করণে মোট ৪২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে ১৯টি, ৫০ ওভারের ১৬টি এবং চার দিনের ম্যাচ হবে সাতটি।
এই কাঠামোতে একই দলকে টি-টোয়েন্টিতে দ্রুত রান তোলা ও চাপ সামলানোর দক্ষতার সঙ্গে চার দিনের ক্রিকেটে ধৈর্য, কৌশল এবং ধারাবাহিকতারও পরীক্ষা দিতে হবে।
ডি–থ্রিতে অংশ নিতে যাওয়া ৬টি দল হলো- ব্লুস্টার, ওয়ালটন গ্রুপ, সিটিজেন ব্যাংক, একমি গ্রুপ, সেভেন রিংস সিমেন্ট ও ফরচুন গ্রপ।
ছয় দলের ছয় আইকন ক্রিকেটার হলেন- ওয়ালটনে মেহেদী হাসান মিরাজকে, ফরচুনে তাওহিদ হৃদয়কে, একমিতে মোসাদ্দেক হোসেনকে, সেভেন রিংস সিমেন্টে মুশফিকুর রহিমকে, ব্লুস্টারে নুরুল হাসান ও সিটিজেনস ব্যাংকে মোহাম্মদ নাঈম।
ডি-থ্রি ট্রফির দল গঠনে প্রচলিত অর্থভিত্তিক নিলামের পরিবর্তে হচ্ছে পয়েন্টভিত্তিক নিলাম। প্রতিটি দলের জন্য ১০ কোটি পয়েন্ট বরাদ্দ আছে। সেই সীমার মধ্যে থেকেই দলগুলোকে খেলোয়াড় বেছে নিয়ে স্কোয়াড গঠন করতে হবে। এক জন খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ কত পয়েন্ট খরচ করা যাবে, তার কোনো সীমা নেই। নিলাম থেকে প্রতিটি দল ২২ জন ক্রিকেটার নিতে হবে।
নিলামে ‘এ’ শ্রেণির খেলোয়াড়দের ভিত্তি পয়েন্ট রাখা হয়েছে ৪০ লাখ, ‘বি’ শ্রেণির ৩০ লাখ, ‘সি’ শ্রেণির ২০ লাখ, ‘ডি’ শ্রেণির ১০ লাখ ও ‘ই’ শ্রেণির ৫ লাখ। এই নিলামের সঙ্গে ক্রিকেটারদের অর্থপ্রাপ্তির কোনো সম্পর্ক নেই। ক্রিকেটাররা পাবেন বিসিবি ঘোষিত অঙ্কের ম্যাচ ফি। চার দিনের ম্যাচের ফি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৫০ ওভারের ম্যাচের ম্যাচ ফি ১ লাখ টাকা ও টি–টোয়েন্টির ৮০ হাজার টাকা।
বিসিবির ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডি-থ্রি ট্রফির টি-টোয়েন্টি সংস্করণ শুরু হওয়ার কথা ২০২৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর। উদ্বোধনী পর্বের ভেন্যু হিসেবে বরিশালের জীবনানন্দ দাস ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকাতেও ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে চার দিনের প্রতিযোগিতা এবং মে মাসে ৫০ ওভারের সংস্করণ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।



