কুড়িগ্রামের রাজারহাটে জন্মের পর থেকেই হৃদযন্ত্রের জটিলতায় ভুগছে দুই মাস বয়সি শিশু ছাকওয়ান। শ্বাসকষ্টে বুক ওঠানামা করে দ্রুত, শ্বাসের সঙ্গে বের হয় অস্বাভাবিক ঘড়ঘড় শব্দ। চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
কিন্তু দরিদ্র পরিবারের সামর্থ্য না থাকায় অনিশ্চয়তায় পড়েছে শিশুটির চিকিৎসা। সন্তানকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে সহায়তার আকুতি জানিয়েছেন তার বাবা-মা।
ছাকওয়ান কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা সদরের গোবর্ধনদোলা গ্রামের রবিউল ইসলাম ও শারমিন আক্তারের সন্তান। জন্মের পর থেকেই হৃদযন্ত্রের জটিলতায় ভুগছে সে। বয়স মাত্র দুই মাস হলেও এরই মধ্যে শ্বাসকষ্ট নিয়ে কঠিন সময় পার করছে শিশুটি। পরিবারের সদস্যদের চোখের সামনেই কষ্টে দিন কাটছে তার।
ছাকওয়ানের বাবা রবিউল ইসলাম কিস্তিতে মিশুক রিকশা চালান। প্রতিদিনের আয় থেকে গাড়ির কিস্তি পরিশোধ করে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয় তাকে। এমন পরিস্থিতিতে সন্তানের উন্নত চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে ছাকওয়ানকে কুড়িগ্রাম সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়; কিন্তু চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ বহন করতে না পেরে বাধ্য হয়ে শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে আসেন তার বাবা-মা। চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিলেও অর্থের অভাবে সেই উদ্যোগ নিতে পারছেন না তারা।
ছাকওয়ানের বাবা রবিউল ইসলাম বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ছেলেকে বাঁচাতে হলে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে; কিন্তু রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। ছেলের চিকিৎসার এত টাকা কোথায় পাব, বুঝতে পারছি না। সবাই সহযোগিতা করলে হয়তো ছেলেটাকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে পারব।
শিশুটির দাদি আছমা খাতুন বলেন, দুই মাসের নাতি প্রতিনিয়ত শ্বাসকষ্টে ভুগছে। বাবা-মা অসহায়ের মতো তার দিকে তাকিয়ে আছেন। অর্থের অভাবে শিশুটির চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাক, তা মেনে নেওয়া যায় না। সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে তার চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, এত ছোট একটি শিশু হৃদযন্ত্রের জটিলতা নিয়ে শ্বাসকষ্টে ভুগছে, যা অত্যন্ত কষ্টের। তার বাবার একার পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা লিপি খাতুন বলেন, অর্থের অভাবে ছাকওয়ানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয়ভাবে সহযোগিতার চেষ্টা চলছে। তবে বড় ধরনের চিকিৎসার জন্য আরও অর্থ প্রয়োজন। এজন্য সরকারের পাশাপাশি বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহায়তা কামনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহা. হুমায়ুন কবির বলেন, রাজারহাটের রবিউলের ছেলে ছাকওয়ানের হৃদরোগের সমস্যার কথা তিনি জানতে পেরেছেন। পরিবারটি সমাজসেবা অধিদপ্তরে আবেদন করলে সরকারি অনুদানের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য সহায়তা করা সম্ভব হবে।
অর্থের অভাবে যেন থেমে না যায় ছাকওয়ানের চিকিৎসার চেষ্টা—এমনটাই প্রত্যাশা পরিবার ও স্থানীয়দের। তাদের আশা, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার আওতায় নেওয়ার পথ তৈরি হবে।



