শরণখোলার লোকালয়ে বাঘ আতঙ্ক বিরাজ করছে। বনরক্ষীরা ড্রোন উড়িয়ে ধানখেতে বাঘের সন্ধান করছেন। রাতের বেলা গ্রামে লোক চলাচল কমে গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে রোববার রাতে সুন্দরবন থেকে পূর্ব সোনাতলা গ্রামে বাঘ ঢুকে পড়েছে।
গ্রামের ধানখেতসহ বিভিন্ন স্থানে বাঘের পায়ের ছাপ দেখেছেন গ্রামবাসী। বনরক্ষী, সিপিজি ও ভিটিআরটি সদস্যরা জনগণকে সচেতন করতে মাইকিং শুরু করেছেন।
বন বিভাগের কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) টিম লিডার মো. খলিল জোমাদ্দার সোমবার দুপুরে জানান, রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সুন্দরবনসংলগ্ন পূর্ব সোনাতলা গ্রামের সরোয়ার হাওলাদারের বাড়ির সামনে এবং আবু রাজ্জাক আকনের মাছের ঘেরের পাড়ে বিক্ষিপ্তভাবে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান এলাকাবাসী। বিষয়টি তাৎক্ষণিক সুন্দরবন বিভাগ, ভিটিআরটি ও সিপিজি সদস্যদের জানান তারা। খবর পেয়ে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বনরক্ষী, সিপিজি ও ভিটিআরটি সদস্যদের নিয়ে পূর্ব সোনাতলা গ্রামে যান এবং বাঘ বিচরণ করে ধানখেতের দিকে চলে যাওয়ার পায়ের ছাপ দেখতে পান।
সোনাতলা গ্রামের সিপিজি সহকারী টিম লিডার মো. সাচ্চু আকন জানান, গ্রামের ধানখেত ও সবজিখেতের আলের উপর বাঘের পায়ের ছাপ দেখে গ্রামবাসীর মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বাঘের ভয়ে রাতের বেলা গ্রামে লোক চলাচল কমে গেছে। সোমবার সকাল থেকে সুন্দরবনসংলগ্ন শরণখোলা, পানিরঘাট, সোনাতলা, মডেলবাজার ও পূর্ব সোনাতলা গ্রামের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় জনসাধারণকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের জন্য মাইকিং করা হয়েছে বলে সিপিজি সহকারী টিম লিডার জানিয়েছেন। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর রাতে সুন্দরবনসংলগ্ন পানিরঘাট সোনাতলা এলাকার গ্রামে বাঘ বিচরণ করে সুন্দরবনে ফিরে যাওয়ার চিহ্ন পাওয়া যায়।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, গ্রামে বাঘ আসার খবর পেয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত পূর্ব সোনাতলা গ্রামের ধানখেতের উপর ড্রোন উড়িয়ে বাঘের সন্ধান করা হয়েছে। কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বাঘ সুন্দরবনে ফিরে যাওয়ারও কোনো আলামত দেখা যায়নি। বাঘ ভোলা নদী সাঁতরে লোকালয়ে চলে আসে। জনসাধারণকে সচেতন করতে এলাকায় মাইকিং এবং বনরক্ষীসহ ভিটিআরটি ও সিপিজি সদস্যদের সার্বক্ষণিক টহলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।



