মানিকগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ে চাকরির আশ্বাসে আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার পর হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় ভুয়া নিয়োগপত্র। এরপর ভুক্তভোগী টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে উল্টো গালিগালাজ ও হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. তমাল মানিকগঞ্জ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পাশাপাশি দলের জেলা কমিটির কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী তমাল তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিং সুপারভাইজার পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে জামানত হিসেবে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম। এ সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেএসএফ ট্রেড লিমিটেডের অফিসিয়াল প্যাডে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তারিখের একটি নিয়োগপত্রও দেওয়া হয় তাকে।
ওই নিয়োগপত্র নিয়ে হাসপাতালে যোগদান করতে গেলে তমাল জানতে পারেন, তার নামে দেওয়া ওই নিয়োগপত্রটি ভুয়া। পরে টাকা ফেরত চাইলে আরিফুল নানা অজুহাতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাকে ঘোরাতে থাকেন। একপর্যায়ে তাকে চাকরি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়।
এরপরও গত ২৪ অক্টোবর মোবাইল ফোনে তমাল টাকা ফেরত চাইলে তাকে গালিগালাজ ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন আরিফুল ইসলাম। পরে নিজের জীবনের নিরাপত্তার শঙ্কায় তিনি গত শনিবার মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি জিডি করার পাশাপাশি এনসিপির জেলা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেএসএফ ট্রেড লিমিটেডের বক্তব্যেও উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার নাসিম হাওলাদার বলেন, মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ে লোকবল সরবরাহের ঠিকাদার তার প্রতিষ্ঠান। তবে নতুন করে কোনো লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। পুরোনো লোকবল দিয়েই কাজ চলছে। আরিফুল ইসলামের সঙ্গে তাদের প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে তিনি লোকবল নিয়োগের জন্য তদবির করেছিলেন। আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে তমাল নামে কাউকে সুপারভাইজার পদে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আরিফুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগটি সত্য নয়, আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এ ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। ষড়যন্ত্র করে তমালকে দিয়ে কেউ এ অভিযোগ করিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি সোমবার আদালতে মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে জুমবাংলা.কম-এর মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছেন বলেও জানান।
এদিকে অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন এনসিপির মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অভিযোগটি পাওয়া গেছে। কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটি তদন্তের জন্য একজন উপপরিদর্শকের কাছে দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



