বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট ৬৩ হাজার ৭২ দশমিক ৯০৯ একর জমি আছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৪ দশমিক ৮৪ একর জমি অবৈধ দখলে রয়েছে।
সোমবার রেলপথ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগার।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, গত অর্থবছরে ২৫ হাজার ৮৩ একর জমি ইজারা দিয়ে ৮৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা আয় করেছে রেলওয়ে।
এদিকে, মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হিসাবের সঙ্গে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যের অমিল রয়েছে। ২০২৫ সালের ১ মে সর্বশেষ হালনাগাদ করা ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, রেলওয়ের জমির পরিমাণ ৬১ হাজার ৮৬০ দশমিক ২৮ একর। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬৭৮ দশমিক ৮৩ একর জমি অবৈধ দখলে এবং ১৪ হাজার ৪৭৩ দশমিক ২৪ একর ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে দুই হিসাবের এই পার্থক্যের কারণ জানা যায়নি।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া পাকশী ও লালমনিরহাটে গঠিত বিশেষ কমিটি তিন মাসের মধ্যে দখল হওয়া জমি চিহ্নিত করবে এবং পর্যায়ক্রমে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেবে।
অব্যবহৃত জমি ও অবৈধ দখল পর্যবেক্ষণে নতুন স্টেট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার চালু করেছে রেলওয়ে। এছাড়া রেলওয়ের জমিতে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ দমনে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
অনলাইনে টিকিট বিক্রির বিষয়ে কমিটির কয়েকজন সদস্য প্রস্তাব দেন, আন্তনগর ট্রেনের সব টিকিট যাত্রার ১০ দিন আগে ছেড়ে না দিয়ে প্রতিদিন ১০ শতাংশ করে বিক্রি করা হোক। তাদের যুক্তি, ধাপে ধাপে টিকিট বিক্রি করা হলে কালোবাজারি কমতে পারে এবং অল্প সময়ের নোটিশে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা যাত্রীরা উপকৃত হবেন।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী বছরের শুরুর দিকে সহজের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অনলাইন টিকিট বিক্রির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগে নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় কমিটিকে আরও জানিয়েছে, মিটারগেজ লোকোমোটিভের সংকটের কারণে বাংলাদেশ রেলওয়েকে মালবাহী ট্রেন চলাচল কমাতে হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থাপিত অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় নিয়মিত কনটেইনার পরিবহন করা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য গন্তব্যে জ্বালানি ও খাদ্যশস্য পরিবহন করা হচ্ছে। তবে লোকোমোটিভের সংকটে মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা কমেছে।
সংকট মোকাবিলায় সম্প্রতি ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ কেনার একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া আগে অনুমোদিত একটি প্রকল্পের আওতায় আরও ৩০টি লোকোমোটিভ কেনার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৯ সালের মধ্যে ৬০টি লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা সম্ভব হলে রেলওয়ে কনটেইনার, জ্বালানি ও খাদ্যশস্যসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন বাড়াতে পারবে। এতে অতিরিক্ত রাজস্বও আয় করা সম্ভব হবে।
বিশ্বব্যাংকের ‘গ্রিন রেলওয়ে’ প্রকল্পের আওতায় আরও ২০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ কেনার প্রক্রিয়াও চলছে।
মন্ত্রণালয় কমিটিকে আরও জানিয়েছে, মোংলা বন্দর থেকে টাঙ্গাইলের সয়দাবাদ ও জয়পুরহাটে সীমিত পরিসরে চিটাগুড় পরিবহন করা হচ্ছে। তবে মোংলা থেকে অন্য কোনো পণ্য পরিবহনের চাহিদা রেলওয়ে পায়নি।



