বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

খেলাধুলা

‘দেখো! আমরা করে দেখিয়েছি!’ ব্যালন ডি’অর জিতে স্ত্রীকে বললেন কেইন

‘দেখো! আমরা করে দেখিয়েছি!’ ব্যালন ডি’অর জিতে স্ত্রীকে বললেন কেইন...

ম
মোহাম্মদ আলী· ক্রীড়া সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২১ এএমসর্বশেষ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২১ এএম
‘দেখো! আমরা করে দেখিয়েছি!’ ব্যালন ডি’অর জিতে স্ত্রীকে বললেন কেইন

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জিতে আবেগে ভাসলেন হ্যারি কেইন। সোমবার রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়ামে পুরস্কার গ্রহণের পর ১০ মিনিটের বেশি সময় বক্তব্য দেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। এ সময় স্ত্রী কেটি গুডল্যান্ডকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান তিনি। নিজের সাফল্যের পেছনে স্ত্রীর ত্যাগ ও সমর্থনের কথা তুলে ধরেন বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার।

কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিন ইয়ামালকে পেছনে ফেলে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ৩৩ বছর বয়সী কেইন। এর মধ্য দিয়ে ২৫ বছর পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে এই পুরস্কার জিতলেন তিনি।

পুরস্কার গ্রহণের পর কেইনের বক্তব্যে উঠে আসে পরিবার, ভালোবাসা ও দীর্ঘদিনের সংগ্রামের কথা। চার সন্তানের মা ও দীর্ঘদিনের সঙ্গী কেটি গুডল্যান্ডকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী কেটি, তুমি আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। আমাদের জীবনে ভালো ও খারাপ সময় দুটোই এসেছে। তুমিই আমার সবচেয়ে বড় সমর্থক। আমার মনে হয়েছে, তুমি হয়তো আমার চেয়েও বেশি করে এই পুরস্কারটি চেয়েছিলে।

এরপর দীর্ঘ অপেক্ষার কথা তুলে ধরে কেইন বলেন, ‘আমাদের ফল জানার জন্য যে উদ্বেগের মধ্যে অপেক্ষা করতে হয়েছে, তা তোমার জন্য কতটা কঠিন ছিল, আমি জানি। অবশেষে সেই মুহূর্ত এসেছে। দেখো! আমরা পেরেছি! আমরা করে দেখিয়েছি! তুমি সব সময় আমার ভালো চাও। আমার স্বপ্ন পূরণে তুমি নিজের অনেক কিছু ত্যাগ করেছ। আমি জানি, এগুলো তোমারও স্বপ্ন। তোমাকে ছাড়া এটি সম্ভব হতো না।

নিজের সাফল্যকে শুধু ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখতে চান না কেইন। তার মতে, এই পুরস্কারের পেছনে পরিবারের সবার অবদান রয়েছে।

স্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এই ট্রফি আমরা উদযাপন করব, শুধু আমি নয়। এটি আমার ও তোমার অর্জন। এটি পুরো পরিবারের এবং আমাদের ঘনিষ্ঠ দলের সবার অর্জন। তাই আমি শুধু তোমাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি তোমাকে ভালোবাসি।

এরপর তিনি যোগ করেন, ‘আজ রাতে এই আনন্দ উপভোগ করতে এবং উদযাপন করতে আর তর সইছে না। তোমাকে ভালোবাসি।

বক্তব্যে নিজের বড় ভাই চার্লির কথাও তুলে ধরেন কেইন। ছোটবেলার স্মৃতি মনে করে তিনি জানান, একসময় তারা বাগানে ও পার্কে ফুটবল খেলতেন। একসঙ্গে খেলা দেখতেন। ফুটবল নিয়ে কথা বলেই সময় কাটত তাদের।

কেইন বলেন, ‘আজ রাতে আমার ভাই চার্লি এখানে আছে। মনে হয় না, খুব বেশি দিন আগের কথা, যখন আমরা বাগানে ও পার্কে ফুটবল খেলতাম। একসঙ্গে ফুটবল দেখতাম। ফুটবল নিয়েই কথা বলতাম। আমরা ফুটবল নিয়ে পাগল ছিলাম।

ভাইয়ের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘তুমি আমাকে বলো, আমার ফুটবল খেলার দক্ষতার অনেকটাই নাকি তোমার কাছ থেকে পেয়েছি। সে জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। বড় ভাইয়ের কাছ থেকে এমন ভালোবাসা ও সমর্থন পাওয়া আমার কাছে অনেক বড় বিষয়। তুমি ভ্রমণ করেছ, আমার খেলা দেখতে এসেছ। নিজের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ ছেড়ে আমাকে সমর্থন দিয়েছ। তোমাকে ধন্যবাদ।

এরপর মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কেইন। ছোটবেলায় অনুশীলনে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে ইংল্যান্ড ও জার্মানিতে তার খেলা দেখতে যাওয়ার স্মৃতি তুলে ধরেন তিনি।

কেইন বলেন, ‘মা ও বাবা, তোমরাও এখানে বসে আছ। কী অসাধারণ একটি মুহূর্ত! এত বছর ধরে তোমরা আমার জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছ। আমাকে সমর্থন দিয়েছ। অনুশীলনে নিয়ে গেছ। ইংল্যান্ডের বিভিন্ন জায়গায়, জার্মানিতে এবং যেখানেই খেলা হয়েছে, আমাকে দেখতে এসেছ। এখনো তোমরা আমার পাশে আছো।

মা-বাবার কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষায়, ‘ফুটবলার হতেই হবে, এমন কোনো চাপ তোমরা কখনো দাওনি। তোমরা সব সময় কঠোর পরিশ্রম করতে বলেছ। উন্নতি করতে বলেছ। নতুন কিছু শিখতে বলেছ। তোমাদের দেওয়া এই শিক্ষাগুলোই আমাকে সফল হতে সাহায্য করেছে। আজকের এই জায়গায় আসতে পেরেছি তোমাদের জন্য। আমি তোমাদের ভালোবাসি। অনেক ধন্যবাদ।

কেইনের চার সন্তান আইভি, ভিভিয়েন, লুইস ও হেনরি বাড়িতে বসে অনুষ্ঠান দেখছিল। বক্তব্যের একপর্যায়ে সন্তানদের কথাও বলেন তিনি। মজার ছলে জানান, অনুষ্ঠান শেষ হতে দেরি হওয়ায় তখন তাদের ঘুমানোর সময়ও পেরিয়ে গেছে। সন্তানদের উদ্দেশে কেইন বলেন, ‘তোমরাই আমার সবকিছু করার কারণ।

তিনি আরও বলেন, ‘এই ট্রফি বাড়িতে নিয়ে গেলে তোমরা হয়তো এর গুরুত্ব পুরোপুরি বুঝতে পারবে না। আমি আরও কিছু ট্রফি বাড়িতে নিয়ে আসব। তবে এটি বিশেষ একটি পুরস্কার। তাই তোমাদের সঙ্গে দেখা করতে এবং একসঙ্গে উদযাপন করতে আমার তর সইছে না।

বাবা ও পেশাদার ফুটবলার হিসেবে সন্তানদের সামনে ভালো উদাহরণ তৈরি করতে চান কেইন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি একজন বাবা হিসেবে ভালো উদাহরণ তৈরি করতে চাই। একই সঙ্গে একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবেও। কঠোর পরিশ্রমের অর্থ কী, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখার অর্থ কী, তা তোমাদের দেখাতে চাই। আমি তোমাদের অনেক ভালোবাসি।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মোহাম্মদ আলী

ক্রীড়া সংবাদদাতা

খেলাধুলা বিভাগের বিশেষ সংবাদদাতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ