অবশেষে রেল নিয়ে দীর্ঘ ৬০ বছরের অপেক্ষার পালা শেষ হতে চলেছে পাবনাবাসীর। পাবনা-ঢাকা সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস চালুর প্রস্তুতি এখন শেষপর্যায়ে।
সাড়ে তিন বছর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ঘোষণা অনুযায়ী সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সত্ত্বেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রহস্যজনক ‘না’ সিদ্ধান্তে পাবনা-ঢাকা সরাসরি ট্রেন সার্ভিস চালু হয়নি। সেই ঘোষণার সাড়ে তিন বছর পর বর্তমান সরকারের হাতেই পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত পাবনা-ঢাকা-পাবনা রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন আগামী ২০ নভেম্বর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে।
এ ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১০ নভেম্বর থেকে। যমুনা সেতু হয়ে চলাচলকারী এ ট্রেন চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্টের কার্যালয় থেকে ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা এক পত্রে নতুন ট্রেনের নাম, সময়সূচি ও যাত্রাবিরতির সংশোধিত প্রস্তাব মহাপরিচালকের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ট্রেন দুটির নাম রাখা হয়েছে ‘পাবনা প্রভাতী এক্সপ্রেস (৮০৮)’ ও ‘পাবনা গোধূলি এক্সপ্রেস (৮০৭)’। ৮০৮ নম্বর ট্রেনটি পাবনা থেকে সকাল ৮টায় ছেড়ে ঈশ্বরদী হয়ে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছানোর প্রস্তাব করা হয়েছে এবং ৮০৭ নম্বর ট্রেনটি ঢাকা থেকে বিকাল ৩টা ২৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ৯টা ২০ মিনিটে পাবনায় পৌঁছবে।
প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী, ট্রেন দুটি টেবুনিয়া, দাশুড়িয়া, ঈশ্বরদী, মাঝগ্রাম, চাটমোহর, বড়ালব্রিজ, উল্লাপাড়া, শহীদ মনসুর আলী, টাঙ্গাইল, জয়দেবপুর ও ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে।
রেলওয়ের পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন ট্রেনের সময়সূচি বাস্তবায়নে ৭৭৯ নম্বর ঢালারচর এক্সপ্রেসের ছাড়ার সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিট থেকে এগিয়ে সকাল ৬টা ১০ মিনিট করতে হবে। এ ছাড়া ৭৬৩ নম্বর ট্রেনের সময়সূচিও আংশিক পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৭ জেলার একটি এবং অত্যন্ত পুরোনো ও ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ পাবনা জেলা। জেলাবাসীর সরাসরি পাবনা-ঢাকা রেল চালুর দাবি দীর্ঘ ৬০ বছরের। স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ সালে ঈশ্বরদী-পাবনা-নগরবাড়ি রেললাইনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হয়। কিন্তু কালের বিবর্তনে তা থেমে যায়। এরপর বিগত সরকারের আমলে রাজশাহী-ঢালারচর পর্যন্ত রেল সার্ভিস চালু করা হলেও পাবনা-ঢাকা সরাসরি রেল সার্ভিস চালু হয়নি।
২০২৩ সালের ১৬ মে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পাবনায় দেওয়া বিশাল সংবর্ধনা সভায় তিনি ঘোষণা করেন, ওই বছরের সেপ্টেম্বর থেকে পাবনা-ঢাকা সরাসরি রেল চলবে। এরপরই রাষ্ট্রপতির ঘোষণা বাস্তবায়নে রেল কর্তৃপক্ষ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এবং ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবীরের স্বাক্ষরিত একটি সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়। ওই সারসংক্ষেপে ট্রেনের নাম নির্ধারণ ও উদ্বোধন করার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় চাওয়া হয়। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী রহস্যজনক কারণে বিষয়টি আমলে নেননি। ওই বছর ৩০ সেপ্টেম্বর সংবাদমাধ্যমে ‘পাবনাবাসীর স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে’ মর্মে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়।
এরপর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসলে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ট্রেনটি চালুর বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
এক্ষেত্রে পাবনার সন্তান রেল সচিব ফাহিমুল ইসলাম শোভনও ভূমিকা রাখেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
এদিকে পাবনাবাসীর দীর্ঘ ৬০ বছরের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে—এমন খবরে উল্লসিত জেলার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু হলে পাবনা জেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার যাত্রীদের ঢাকায় যাতায়াত আরও সহজ হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে রাজধানীতে যাতায়াতকারী মানুষ এর সুফল পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।



