তিনি যখন উইকেটে আসছেন, তখন দলের স্কোরবোর্ড দেখে বোঝার উপায় নেই কোনটা রান আর কোনটা উইকেট। ৫/৪ এই ছিল দশা। সেখান থেকে আফগানিস্তান ২২১ রান তুলে ইনিংস শেষ করেছে গেল রাতে। এতে বড় ভূমিকাই রেখেছেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই, ৬ নম্বরে নেমে করেছেন সেঞ্চুরি। গড়েছেন বিশ্বরেকর্ডও! তবে এই বিশ্বরেকর্ড ম্লান হয়ে যেত দল না জিতলে। আফগানিস্তান আর পা হড়কায়নি। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে ১৯ রানে।
আজমতউল্লাহ নেমেই পাল্টা আক্রমণে যান। এতে পুরো ইনিংসের গতিপথই বদলে যায়। তিনি ৫০ বলে ১১৬ রান করেন। মেরেছেন পাঁচটি চার ও ১২টি ছক্কা। স্ট্রাইক রেট ২৩২।
এই ইনিংসের মাধ্যমে ওমরজাই একটি রেকর্ড গড়েছেন। পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে ছয় নম্বর বা তার নিচে নেমে এটাই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান। আগের রেকর্ড ছিল ৮৯। সেটি করেছিলেন আফগানিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী। ২০১৭ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।
এই তালিকায় ওমরজাই ছাড়িয়ে গেছেন আরও তিনজনকে। তারা হলেন স্যাম বিলিংস, ক্যামেরন হোয়াইট ও ডেভিড মিলার। বিলিংস ২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেছিলেন ৮৭। হোয়াইট ২০১০ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপরাজিত ৮৫ করেন। মিলারও ২০২১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ৮৫ রান করেছিলেন।
শুরুতে আফগানিস্তানের ইনিংস ছিল বিশৃঙ্খল। জিম্বাবুয়ের বোলাররা ৫ রানে চার উইকেট তুলে নেন। আফগান টপ অর্ডারের ভেতর কেবল সেদিকউল্লাহ আতাল দুই অঙ্কে পৌঁছেছেন। সেটাও টি-টোয়েন্টির বিচারে নগণ্য। ২১ বলে মাত্র ১৭ রান করে নবম ওভারে আউট হন তিনি।
এরপর ওমরজাই পেয়ে যান আদর্শ সঙ্গী। তিনি ইজাজ আহমেদ আহমাদজাই। দুজন মিলে দারুণভাবে ইনিংস গুছিয়ে নেন। ষষ্ঠ উইকেটে তারা মাত্র ৫৯ বলে ১৪২ রান যোগ করেন। ইজাজ ২৭ বলে ৫২ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কা।
দলের রান ১৮০ হলে ইজাজ আউট হন। জুটি ভাঙে। ওমরজাই আরও কিছুক্ষণ ঝড় চালান। ১৯তম ওভারে তিনি আউট হন। ততক্ষণে আফগানিস্তানের বড় পুঁজির বিষয়টা নিশ্চিত হয়ে গেছে, ওমরজাই নিজেও গড়ে ফেলেছেন বিশ্বরেকর্ড।
সেখান থেকে ইনিংসের শেষটা করেন অধিনায়ক রশিদ খান। তিনি ছয় বলে অপরাজিত ২৫ রান করেন। মেরেছেন চারটি ছক্কা। মুজিব উর রহমান দুই রানে অপরাজিত থাকেন। আফগানিস্তান ওভারপ্রতি ১১.০৫ রান করে ২২১ রানে ইনিংস শেষ করে।
জবাবে জিম্বাবুয়ে লড়েছে, কিন্তু লক্ষ্য ছিল অনেক বড়। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা সেঞ্চুরি করেন। এটি টি-টোয়েন্টিতে তার দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি। তিনি শেষ পর্যন্ত লড়ে যান। তবু দলকে জেতাতে পারেননি। আফগানিস্তানের শুরুর ধসের কথা তখন অনেক দূরের স্মৃতি হয়ে গেছে।
অভিষেক ম্যাচে তাফাদজোয়া সিগা মূল্যবান সমর্থন দেন। কিন্তু রায়ান বার্লের আউট জিম্বাবুয়ের আশায় আরেকটি আঘাত হানে।
এই জয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আফগানিস্তানের আধিপত্য আরও বেড়েছে। টানা অষ্টম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে তারা। জিম্বাবুয়ে এখনো আফগানদের বিপক্ষে কোনো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জেতেনি।



