পাবনায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে মৃত ছয় কিশোর-তরুণের মরদেহ একই কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে পাবনার মালঞ্চি ইউনিয়নে জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়।
গতকাল বিকেলে পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের সোনাপাতিল বিলে বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তিনজন গুরুতর আহত হন।
নিহতরা হলেন—গজমতিকুন্ডা গ্রামের শাওন (২২) এবং নলমুড়া গ্রামের রব্বেল (২২), মিজান (১২), সাজিদ (১০), আব্দুল্লাহ (১৮) ও ইমন (১৪)। এর মধ্যে মিজান, সাজিদ ও আব্দুল্লাহ সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার বিকেলে একদল কিশোর ও তরুণ ওই বিলে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। আবহাওয়া খারাপ হয়ে গেলে তারা বিলের পাশে একটি অস্থায়ী শেডে আশ্রয় নেন।
এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয় এবং তিনজন আহত হন। এলাকাটি নির্জন হওয়ায় বিষয়টি প্রথমে কারো নজরে আসেনি এবং ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর স্থানীয়রা তাদের খুঁজে পান।
আজ সকাল ১০টায় বাশুদেবপুর কবরস্থান প্রাঙ্গণে নিহতদের যৌথ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন গ্রাম থেকে শত শত মানুষ অংশ নেন। পরে তাদের একই কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয় বলে জানান মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কবির আহমেদ বাবু।
বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার পরিবেশ। প্রিয়জনকে হারিয়ে পরিবারের সদস্যদের কান্না থামছে না। মিজানের চাচাতো ভাই মো. রানা জানান, পরিবারের অগোচরে শুক্রবার বিকেলে তারা মেঘলা আবহাওয়ায় বিলে মাছ ধরতে গিয়েছিল। এক ঘণ্টার মধ্যেই তারা জানতে পারেন মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় তার তিন চাচাতো ভাই ও এক ফুফাতো ভাই মারা গেছেন।
ইমনের মা রেহানা বেগম ছেলের শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। ইমনের খালা শাহানা বেগম জানান, দুপুরে খাবার খেয়ে ইমন বাড়ি থেকে বের হলেও সে কোথায় যাচ্ছে তা তারা বুঝতে পারেননি। ছেলের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর থেকে তার মা কোনো কথাই বলতে পারছেন না। ছেলে ও তিন ভাইকে একসঙ্গে হারিয়ে তিনি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন।
বিলের পাশের স্থানীয় বাসিন্দা মো. রিপন প্রামাণিক জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুড়ে যাওয়া মরদেহগুলো দেখতে পান। সেই দৃশ্য তিনি ভুলতে পারছেন না এবং এই ঘটনার পর থেকে তিনি ঘুমাতেও পারছেন না।
পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামারা তাসবিহা জানিয়েছেন, প্রত্যেক মৃতের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা এবং আহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।



