শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
১৬ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

‘ছেলেপুলে পাঠাতে হলে ৫০ লাখ হয়ে যাবে ১ কোটি’

‘ছেলেপুলে পাঠাতে হলে ৫০ লাখ হয়ে যাবে ১ কোটি’...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪০ পিএমসর্বশেষ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
‘ছেলেপুলে পাঠাতে হলে ৫০ লাখ হয়ে যাবে ১ কোটি’

চট্টগ্রাম মহানগরীর হামজারবাগের এক প্রবাসীকে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী সাব্বির হোসেন সানি। সাজ্জাদের নাম ব্যবহার করে তিনি ফোন করে ওই প্রবাসীকে বলেছিলেন- ‘একটার মধ্যে যোগাযোগ করবে, ঠিক আছে?... এরপর যদি ছেলেপুলে পাঠাতে হয়, ঘটনা ঘটাতে হয়, তবে ৫০ লাখ ১ কোটি হয়ে যাবে, কমবে না। চলতি বছরের আগস্টে এমন হুমকি দিয়েছিলেন সানি।

তবে তার শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। বড় সাজ্জাদের বেতনভোগী সানির চাঁদাবাজি ও ভয় দেখানোর একাধিক ভিডিও গোয়েন্দা পুলিশ পেয়েছে।

শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিশেষ অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেফতার করে। শনিবার দুপুরে আদালতে তাকে চালান করা হয়েছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ থানার সাতবসু এলাকার মো. মালেকের ছেলে সানি। নগরীর পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় বসবাসকারী সানির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ছোট সাজ্জাদ ও ডেভিড ইমন কারাগারে থাকায় বড় সাজ্জাদের পক্ষে সানি চাঁদাবাজি করে বেড়াচ্ছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল জানান, সানি বড় সাজ্জাদের বিশ্বস্ত সহযোগী। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় দুটি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি ঘটনার অডিও রেকর্ড তাদের হাতে এসেছে। অডিও রেকর্ডসহ সব তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

জেলা পুলিশ জানায়, প্রবাসী মোহাম্মদ ইউসুফের ছেলে মোহাম্মদ শওকতকে ফোন করে সানি চাঁদা দাবি করেছিলেন। শওকতও প্রবাসী ব্যবসায়ী। মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে সানি বলেন, ‘ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ কর। তার সঙ্গে কথা বল। উনার কাতারের নম্বরটাতে যোগাযোগ করে ক্লিয়ার করে ফেল। যদি ক্লিয়ার না কর, তবে ফ্যামিলির যে কোনো একজনের শরীর প্রথমে বোলতার বাসা বানিয়ে খেলা শুরু হবে। এরপর আস্তে আস্তে তোমার দিকে আসবে। তোমার বাবাকে কল দিলাম না। তিনি হার্টের রোগী, আবার মরে-টরে যাবে। তাই তোমারে জানালাম।

পুলিশ জানায়, সানি আগে বিদেশে থাকতেন। বড় সাজ্জাদের নির্দেশনায় গত বছর তিনি দেশে ফেরেন। বড় সাজ্জাদের কাছ থেকে সানি প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন নিতেন। চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িয়ে পড়েন। কিছুদিন ধরে বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড হয়ে কাজ করছিলেন। কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে তাকে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ চক্রের সদস্যরা প্রভাব বিস্তার ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের চেষ্টা করতেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভুক্তভোগীদের বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা চালানো হতো।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ