রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬
১৬ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

খেলাধুলা

ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে পিসিবিকে দিতে হবে ২৫ হাজার ডলার

ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে পিসিবিকে দিতে হবে ২৫ হাজার ডলার...

ম
মোহাম্মদ আলী· ক্রীড়া সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৭:৩৯ পিএমসর্বশেষ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৭:৩৯ পিএম
ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে পিসিবিকে দিতে হবে ২৫ হাজার ডলার

বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ এমনিতেই সীমিত। এবার সেই সুযোগ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) নতুন শর্তে। বিদেশি লিগে খেলতে অনাপত্তিপত্র বা এনওসি পেতে প্রত্যেক ক্রিকেটারের জন্য ২৫ হাজার ডলার দাবি করছে বোর্ডটি।

শেষ মুহূর্তে এমন আর্থিক শর্তের কারণে কয়েকজন ক্রিকেটারের চুক্তি বাতিল হয়েছে। ভবিষ্যতে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের দলে নেওয়ার আগ্রহও হারাতে পারেন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকেরা।

ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট উইজডেনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি নেপাল প্রিমিয়ার লিগে (এনপিএল) পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটারের খেলার কথা ছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় দলের অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহানও। কিন্তু পিসিবির এনওসি নীতির কারণে শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পেরেছেন মাত্র দুজন—হুসাইন তালাত ও জাহানদাদ খান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রত্যেক ক্রিকেটারের এনওসি দেওয়ার বিনিময়ে ২৫ হাজার ডলার চেয়েছে পিসিবি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ টাকা। শেষ মুহূর্তে এমন দাবি আসায় বিপাকে পড়েছে নেপাল প্রিমিয়ার লিগের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। কয়েকটি দল পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করে অন্য দেশের ক্রিকেটারদের দলে নিয়েছে। কেউ কেউ আবার নেপালেই যাননি। এমনকি একজন ক্রিকেটার দলের প্রথম ম্যাচের টসের মাত্র ১৫ মিনিট আগপর্যন্ত খেলার আশায় ছিলেন।

পিসিবির এমন অবস্থানে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের পাশাপাশি ক্রিকেটারদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে বোর্ড সরাসরি যোগাযোগ করলেও এনওসি কিংবা অর্থ পরিশোধের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি বা চালান পাঠানো হয়নি বলে জানিয়েছে উইজডেন। ফলে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।

এনপিএলে হুসাইন তালাত ও জাহানদাদ খানকে খেলানোর অনুমতি নিশ্চিত করতে তাদের সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো অতিরিক্ত অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। তবে বিদেশি লিগে খেলার জন্য এমন অর্থ দাবি করার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটেও (এমএলসি) একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

এমএলসির একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক উইজডেনকে জানান, টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে পিসিবি প্রতিটি ক্রিকেটারের এনওসির জন্য ২৫ হাজার ডলার দাবি করে। তখন খেলোয়াড় পরিবর্তনের সুযোগও প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল। আগে থেকে কেন বিষয়টি জানানো হয়নি, তা জানতে চাইলেও বোর্ডের কাছ থেকে কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি। শুধু অর্থ পরিশোধের দাবিই জানানো হয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত এমএলসিতে পাকিস্তানের হয়ে খেলতে পেরেছিলেন কেবল পেসার হারিস রউফ। সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসই একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি ছিল, যারা পিসিবির চাওয়া অর্থ দিতে রাজি হয়েছিল।

এমনিতেই বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণের সুযোগ কম। ভারতীয় মালিকানাধীন দলগুলোর প্রভাব রয়েছে, এমন প্রতিযোগিতাগুলোতে তাদের সুযোগ আরও সীমিত। দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০ লিগে এখন পর্যন্ত কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটারের খেলার নজির নেই। ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেডের চারটি দল আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের কাছে বিক্রি হওয়ার পরও পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। যদিও পরে সানরাইজার্স লিডস লেগ স্পিনার আবরার আহমেদকে দলে নেয়।

এই পরিস্থিতিতে এনওসি পেতে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার শর্ত পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের বিদেশি লিগে খেলার সম্ভাবনাকে আরও কমিয়ে দিতে পারে। কারণ, কোনো খেলোয়াড়কে দলে নেওয়ার আগে তার খেলার অনুমতি নিশ্চিত করতে চান ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষ। শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত অর্থ দাবি কিংবা এনওসি না পাওয়ার ঝুঁকি থাকলে দলগুলো পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের পরিবর্তে অন্য দেশের খেলোয়াড় বেছে নিতে পারে।

পিসিবির এই নীতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে অন্য বোর্ডগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একটি বোর্ড বিদেশি লিগে অংশগ্রহণের অনুমতির জন্য অর্থ দাবি করলে অন্য দেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ডও একই ধরনের নীতি অনুসরণ করতে পারে। এমনকি পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলতে বিদেশি ক্রিকেটারদের এনওসি দেওয়ার ক্ষেত্রেও পালটা অর্থ দাবি করার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

উইজডেনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিদেশি লিগে নিজেদের ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর পরিবর্তে পিসিবির এমন সিদ্ধান্ত তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও বাজারমূল্য কমিয়ে দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই নীতির সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন পাকিস্তানের ক্রিকেটাররাই।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মোহাম্মদ আলী

ক্রীড়া সংবাদদাতা

খেলাধুলা বিভাগের বিশেষ সংবাদদাতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ