ঢাকার মিরপুরের পল্লবীর কালশী এলাকায় সাড়ে তিন মাস বয়সী শিশু আলিফকে টিকা দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়েছিলেন মা নীলুফা বেগম (২৫)। মিরপুর সবুজ বাংলা এলাকায় বাসা। সন্তানকে কোলে নিয়ে বাসায় ফেরার জন্য রিকশা খুঁজছিলেন নীলুফা। দাঁড়িয়েছিলেন কালশীর প্রধান রাস্তার পাশে।
হঠাৎ শুরু হয় হট্টগোল। চারদিক থেকে পোশাকশ্রমিকরা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে শুরু করে। পুলিশও চারপাশ ঘিরে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। মুহূর্তের মধ্যে টিয়ারশেলের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় গোটা এলাকা। আতঙ্কিত মানুষজন দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করতে থাকে।
বাতাসে ছড়ানো টিয়ারশেলের ধোঁয়া এসে লাগে শিশু আলিফের চোখে। যন্ত্রণায় চিৎকার করে কেঁদে ওঠে শিশুটি। তখন মা নিলুফা বেগম দ্রুত একটি তোয়ালে দিয়ে আলিফকে ঢেকে নেন।
এরপর সন্তানকে বুকে চেপে ধরে ধোঁয়ার মধ্যেই ছুটতে থাকেন মা। কিছু দূর যাওয়ার পর চলার গতি কমান নীলুফা। বার বার তাকিয়ে দেখেন কোলের সন্তানকে।
অনেকটা নিস্তেজ হয়ে পড়েছে সাড়ে তিন মাস বয়সী আলিফ।
এসময় পথচারীদের পরামর্শে রাস্তার পাশে ছোট একটি হোটেলে সন্তানকে নিয়ে আশ্রয় নেন মা। চোখে-মুখে বারবার পানির ঝাপটা দেওয়ার পর নড়েচড়ে ওঠে আলিফ। মা নীলুফা যেন প্রাণ ফিরে পান।
মাসিক মজুরি ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আজ রোববার সকাল থেকেই মিরপুর-১০, পল্লবী কালশীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
কালশী এলাকায়ও আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। পোশাকশ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এসময় সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকেন।



