সাতক্ষীরার প্রেরণা নারী উন্নয়ন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়েরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)।
তাকে ঘিরে হয়রানি ও নিরাপত্তাঝুঁকির আশঙ্কা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনগুলোর এই জোট।
এইচআরএফবি আজ সোমবার এক সংবাদ বিবৃতিতে জানায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানায় দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারায় শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়। শম্পার অভিযোগ, তার বাসা ও সংগঠনের কার্যালয় পুলিশের নজরদারিতে আছে। পরিবারের সদস্যদেরও হয়রানি করা হচ্ছে।
এইচআরএফবির আহ্বায়ক ও আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমানের সই করা বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সংবিধানস্বীকৃত নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদে নাগরিকের অবাধ চলাফেরার অধিকার এবং ৪৩ অনুচ্ছেদে গৃহ ও যোগাযোগের গোপনীয়তার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই কোনো ব্যক্তির বাসভবন ও কার্যালয়ে নজরদারি এবং পরিবারের সদস্যদের হয়রানির অভিযোগ যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি বলে মনে করে এইচআরএফবি।
মানবাধিকার জোটটি আরও জানায়, মানবাধিকার কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মতো গুরুতর অভিযোগ আনার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা প্রয়োজন। একইসঙ্গে শম্পার আনা অভিযোগগুলো নিয়েও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, একজন মানবাধিকারকর্মী হিসেবে শম্পা গোস্বামী যাতে তার শান্তিপূর্ণ ও বৈধ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি, তার পরিবার এবং নারী উন্নয়ন সংগঠনের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা যেন কোনো ভয়ভীতি, হয়রানি বা প্রতিশোধের শিকার না হন, সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে এইচআরএফবি।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ (বিএমপি) ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশসহ (টিআইবি) দেশের ২০টি মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংস্থার জোট এইচআরএফবি।



