পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে রেললাইনে মরদেহ ফেলে রাখার দায়ে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসেন মুহাম্মদ ফজলুল বারী আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানাও করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৪) জেলার বোদা উপজেলার মাঝগ্রাম এলাকার আখতার হোসেনের ছেলে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি দিনাজপুর থেকে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে পঞ্চগড় যাচ্ছিলেন রিফাত। ঠাকুরগাঁও রোড রেলস্টেশনের কাছে এক বাদাম বিক্রেতার মাধ্যমে ওই কিশোরীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে রাত ৯টার দিকে কিসমত রেলস্টেশনে নামেন রিফাত।
এরপর রেলক্রসিংয়ের পশ্চিম পাশে একটি কক্ষে নিয়ে রিফাত ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন এবং একপর্যায়ে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মৃত্যু হয়। কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ রেললাইনে ফেলে গেলে একটি ট্রেন মরদেহটির ওপর দিয়ে চলে যায়।
মামলার তদন্তে অগ্রগতি আসে ২০২৫ সালের ৮ মার্চ। ওই দিন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরির অভিযোগে স্থানীয় লোকজন রিফাতকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের কিসমত রেলক্রসিংয়ের কাছে হাজী শাহ আলী উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে তাকে আটক করা হয়।
পরে তার মুঠোফোনে আপত্তিকর ছবি-ভিডিও পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন।
একইদিন আটোয়ারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরশাদুল হক তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং উপস্থাপিত তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত সোমবার এ রায় দেন।






