মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
১৮ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

নোয়াখালীতে লাশ নিয়ে ৭০ কিলোমিটার পাড়ি!

নোয়াখালীতে লাশ নিয়ে ৭০ কিলোমিটার পাড়ি!...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১:০৩ পিএমসর্বশেষ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১:০৩ পিএম
নোয়াখালীতে লাশ নিয়ে ৭০ কিলোমিটার পাড়ি!

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে, নৌকাডুবি, হত্যা, আত্মহত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনায় প্রাণ হারান অনেকে। তবে মৃত্যুর পরও শেষ হয় না স্বজনদের দুর্ভোগ। কারণ, প্রায় ১৫ বছর ধরে হাতিয়ায় বন্ধ রয়েছে ময়নাতদন্ত কার্যক্রম। ফলে হত্যাসহ অপমৃত্যুর ঘটনায় লাশ নিয়ে নদীপথে পাড়ি দিতে হয় প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরের নোয়াখালী সদরে।

প্রিয়জন হারানোর শোকের সঙ্গে তখন স্বজনদের মোকাবিলা করতে হয় সময়, অর্থ ও নিরাপত্তার বাড়তি চাপ। বিশেষ করে বৈরী আবহাওয়া কিংবা নদী উত্তাল থাকলে লাশ নিয়ে এ দীর্ঘ যাত্রা হয়ে ওঠে আরও ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টকর। আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে সড়ক দুর্ঘটনা, পানিতে পড়ে মৃত্যু, নৌকাডুবি, হত্যা কিংবা অন্যান্য অপমৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত প্রয়োজন হয়।

কিন্তু হাতিয়ায় সে ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিটি লাশ নিয়ে যেতে হয় নোয়াখালী সদরের মাইজদী জেনারেল হাসপাতালে। হাতিয়া থেকে নোয়াখালী সদরে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম নৌপথ। নদী উত্তাল থাকলে বা বৈরী আবহাওয়া দেখা দিলে লাশ নিয়ে স্বজনদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় হাসপাতালে পৌঁছানোর পরও ময়নাতদন্তের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘আত্মীয়-স্বজনের লাশ নিয়ে নোয়াখালী যেতে হয়। সেখানে লাশ কাটার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রহর গুনতে হয়। এগুলোতে অনেক সমস্যা হয়।

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনেই রয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য নির্ধারিত কক্ষ। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল, বিশেষ করে ডোম না থাকায় প্রায় ১৫ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে সেখানে ময়নাতদন্ত কার্যক্রম। স্থানীয়দের দাবি, হাতিয়ার ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ময়নাতদন্ত ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। শুধু কক্ষ থাকলেই হবে না, এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় জনবল, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সরঞ্জাম নিশ্চিত করে নিয়মিত কার্যক্রম চালু করতে হবে। হাতিয়া উপজেলায় ময়নাতদন্ত ব্যবস্থা চালুর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানসী রানী সরকার বলেন, ‘এখানে বেশিরভাগই জেলে পরিবার থাকে। বিশেষ করে চর এলাকায়। লাশঘরটি যদি পুনরায় চালু হয়, তাহলে এখানে একজন ডোম ও একজন ফরেনসিক ডাক্তার দরকার। তাহলে হাতিয়াবাসী অনেক উপকৃত হবে।

থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, হাতিয়ায় কোনো অপমৃত্যু বা অস্বাভাবিক মৃত হলে লাশ ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা না থাকায় নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নিতে হয়। আবহাওয়া খারাপ থাকলে হাতিয়ার সঙ্গে মূল ভূ-খণ্ডের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় লাশ নিয়ে ব্যাপক ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। হাতিয়া থেকে নোয়াখালী সদর হাসপাতালের দূরত্ব বেশি হওয়ায় খরচও হয় অনেক বেশি। ভেসে আসা বা বেওয়ারিশ লাশ থানার খরচেই ময়নাতদন্ত করতে হয়। হাতিয়া থানার কাছেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এখানে যদি হিমাগার বা লাশঘর স্থাপন করা যায় এবং পাশাপাশি যদি স্থানীয়ভাবে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে পুলিশ ও মৃতের আত্মীয়দের বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি মিলবে।

দ্বীপবাসীর প্রত্যাশা, হাতিয়ার দীর্ঘদিনের এ ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে হাতিয়াতেই ময়নাতদন্ত কার্যক্রম চালু হলে অপমৃত্যুর শিকার মানুষের স্বজনদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

স্থানীয়দের মতে, দ্বীপবাসীর জন্য ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা কোনো বিলাসিতা নয়; এটি তাদের আইনগত অধিকার ও মানবিক মর্যাদার সঙ্গে জড়িত একটি জরুরি সেবা।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ