ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুরে আজও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এতে ওই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে নাওজোর এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মাহসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। পরে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
একই দিন সকালে গাজীপুরের চন্দ্রায় ডিভাইন ও ইন্টার স্টপ কারাখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়ে সড়ক অবরোধ করতে গেলে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।
জানা গেছে, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গাজীপুরে বিজিবি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ১০ প্লাটুন থেকে বাড়িয়ে ১১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা ২১ থেকে বাড়িয়ে ২৫ জন করা হয়েছে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন জানান, শ্রমিকরা সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় অবরোধের চেষ্টা করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেন।
এদিকে, আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে রেখেছে শ্রমিকরা। নিরাপত্তা শঙ্কায় বেশিরভাগ কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে সোমবার ও রোববার সকাল থেকে কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে মহাসড়ক অবরোধ করা হলে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কোথাও কোথাও শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এ সময় কোনাবাড়ী এলাকায় একটি পুলিশ বক্স এবং পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ভাঙচুর করা হয় যানবাহনও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে নিরাপত্তা জোরদারে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
এদিকে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় কারখানা, মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।



