মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
১৮ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটালে কাউকে ছাড় দেবে না সরকার: জিকে গউছ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটালে কাউকে ছাড় দেবে না সরকার: জিকে গউছ...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৯:৫০ পিএমসর্বশেষ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৯:৫০ পিএম
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটালে কাউকে ছাড় দেবে না সরকার: জিকে গউছ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটালে সরকার কাউকে ছাড় দেবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউছ এমপি বলেছেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। যেনতেনভাবে পাশ করলেই কারও চাকরি হবে না, যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি হওয়া যাবে না। মেধার প্রতিযোগিতায় যারা টিকবে, তারাই কেবল বড় বড় বিদ্যাপীঠে পড়ার সুযোগ পাবে।

মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হুইপ জিকে গউছ বলেন, আপনাদের ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে যে বরণ করে নেওয়া হলো, তা গা থেকে ঝেড়ে ফেললেই শেষ নয়; এটি গভীরভাবে উপলব্ধি করার বিষয়। আপনাদের সঙ্গে যারা স্কুল গণ্ডি পেরিয়েছিল, তাদের অনেকেই আজ কলেজে প্রবেশের সুযোগ পায়নি। সেদিক থেকে আপনারা ভাগ্যবান। আপনারা কোনো রাজনৈতিক প্রভাব না খাটিয়ে কেবল নিজেদের মেধা ও যোগ্যতায় কলেজে ভর্তি হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, উন্নত শিক্ষার প্রত্যয় নিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করেছেন আপনারা। অতীতে কষ্ট করে যেহেতু সাফল্যের সঙ্গে এতটা পথ পেরিয়ে এসেছেন, তাই সামনের কয়েকটি বছর একটু হিসাব করে সময়টা কাজে লাগাতে পারলে আপনারাই হবেন আলোকিত মানুষ। সমাজের অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। আর তা না করে অবহেলায় সুযোগ নষ্ট করলে আপনাদের চেয়ে দুর্ভাগ্যবান আর কেউ হবে না।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সমালোচনা করে বৃন্দাবন সরকারি কলেজের একটি উদাহরণ টানেন। জিকে গউছ বলেন, বৃন্দাবন কলেজের অধ্যক্ষ আমাকে জানিয়েছেন, সেখানে এমনও ছাত্র আছে যে এক দিনের জন্যও ক্লাশে যায়নি, এমনকি পরীক্ষাও দেয়নি। সে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেছে। অথচ মা-বাবা অনেক কষ্ট করে, বুকভরা আশা নিয়ে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করাচ্ছেন। এমন কিছু ছাত্রকে প্রথম বর্ষ থেকে দ্বিতীয় বর্ষে উঠতে দেওয়া হয়নি। এখন কিছু অতি উৎসাহী রাজনৈতিক নেতা, যাদের নিজেদেরই কোনো ভবিষ্যৎ নেই, তারা অধ্যক্ষকে চাপ দিয়ে বলছেন— তারা ওই সব ছাত্রের অভিভাবকের দায়িত্ব নেবেন এবং তাদের দ্বিতীয় বর্ষে তুলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।

এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, আমি অধ্যক্ষকে বলেছি, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাবে কেউ যদি আপনার ওপর বলপ্রয়োগ করে, তবে দেশের প্রচলিত আইন আপনার জন্য খোলা আছে। আপনি শুধু জানান সেই ছেলেটি কে? রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, বর্তমান সরকার তাকে কোনো ছাড় দেবে না।

হবিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আবদুল মজীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ইলিয়াস বখ্ত চৌধুরী জালাল প্রমুখ।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ