বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
২০শে কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

আসেনি কর্মসৃজন প্রকল্পের তহবিল, ‘কামলার হাটে’ মিলছে না কাজও

আসেনি কর্মসৃজন প্রকল্পের তহবিল, ‘কামলার হাটে’ মিলছে না কাজও...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৪:০১ পিএমসর্বশেষ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৪:০১ পিএম
আসেনি কর্মসৃজন প্রকল্পের তহবিল, ‘কামলার হাটে’ মিলছে না কাজও

ভোরের আলো ফোটার আগেই কোদাল, কাস্তে, দা, টুকরি আর রশি হাতে রংপুর নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হন দিনমজুরেরা। তবে কাজ মিলছে না ‘কামলার হাটে’।

মাটি কাটা, ইট-বালু ও পাথর বহন, বাঁশের বেড়া তৈরি কিংবা অন্য যেকোনো দিনমজুরির কাজের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও অধিকাংশ দিনই তাদের ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে।

রংপুর নগরীর অন্তত ১২টি পয়েন্টে দিনমজুরেরা কাজের আশায় জড়ো হন। এগুলো ‘কামলার হাট’ নামে পরিচিত।

নগরীর গণেশপুর, শাপলা চত্বর, স্টেশন রোড, মডার্ন মোড়, সাতমাথা, মাহিগঞ্জ, দর্শনা, টার্মিনাল, নজিরহাট, তাজহাট, লালবাগ ও চিকলি এলাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসেন শ্রমিকেরা। সেখান থেকে দৈনিক মজুরি কিংবা চুক্তি অনুযায়ী কাজে যান তারা।

শ্রমিকেরা জানান, গত এক মাস ধরে কাজের তীব্র সংকট। আগে সপ্তাহে অন্তত চার দিন কাজ পাওয়া যেত। এখন অনেকের ভাগ্যে মাত্র এক-দুই দিন কাজ জুটছে।

এসব হাটে প্রায় প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৫০ জন দিনমজুর আসেন। তাদের অধিকাংশই গ্রামের বাসিন্দা। গ্রামে কৃষিকাজ ও অন্যান্য দিনমজুরির কাজ কমে যাওয়ায় জীবিকার তাগিদে তারা শহরে আসছেন।

গণেশপুরে পঞ্চাশোর্ধ্ব দিনমজুর সাইদুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। শিবপুর গ্রাম থেকে প্রায় প্রতি সকালে তিনি কাজের আশায় আসছেন। সাইদুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত এক মাসে মাত্র পাঁচ দিন কাজ পেয়েছি। বাকি ২৫ দিনই খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। গ্রামেও এখন তেমন কাজ নেই, তাই শহরে আসি।

‘চড়া সুদে ঋণ নিয়ে খুব কষ্টে সংসার চালাতে হচ্ছে,’ বলেন তিনি।

একই হাটে কাজের অপেক্ষায় ছিলেন চান মিয়া। তিনি জানান, গত এক সপ্তাহে মাত্র দুই দিন কাজ পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাটে বসে থাকি। কিন্তু কেউ শ্রমিক নিতে আসে না। কখনো কাজ পাই, কখনো খালি হাতে বাড়ি ফিরি। আয় না থাকলে সংসার চালাব কীভাবে? বাধ্য হয়ে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়। এই অবস্থা আর কত দিন চলবে, জানি না।

দেওডোবা গ্রাম থেকে শাপলা চত্বরে আসেন আনোয়ারুল ইসলাম। মাটি কাটা, ইট-পাথর ও বালু বহন, বাঁশের বেড়া তৈরির কাজ করেন তিনি।

‘আগে কখনো এমন কাজের অভাব দেখিনি। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে বাড়ি ফিরে যেতে হয়,’ বলেন তিনি।

মমিনপুরের বাসিন্দা জামবাবু বর্মণ বলেন, ‘দিনমজুরি ছাড়া আর কিছু করতে পারি না। তাই কাজ না থাকলে আয়ও বন্ধ হয়ে যায়। এখন গ্রামেও কাজ নেই, শহরেও কাজ নেই।

তার প্রত্যাশা, শিগগির গ্রামে কৃষিকাজ শুরু হবে, তখন তিনি কাজ পাবেন।

গণেশপুর হাটে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ দিনমজুর ভূমিহীন। কারও কারও বসতভিটা থাকলেও আবাদি জমি নেই। তাদের অধিকাংশই বিকল্প কোনো পেশায় যুক্ত না।

‘আমরা প্রায় কর্মহীন হয়ে পড়েছি। প্রতিদিন কাজ পাব, এমন নিশ্চয়তাও নেই,’ বলেন আরেক শ্রমিক আমির হোসেন।

তাদের ভাষ্য, আমন ধান পাকতে শুরু করেছে। কয়েক দিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু হবে। এরপর আলু, ভুট্টা ও শীতকালীন সবজি চাষের মৌসুম শুরু হলে কৃষিশ্রমিকের চাহিদা বাড়বে।

গণেশপুর এলাকার বাসিন্দা হাসেম আলীর মতে, তাদের এলাকায় নির্মাণকাজ আগের মতো হচ্ছে না। এ কারণে কাজের সুযোগ কমে গেছে।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর সূত্র অনুসারে, রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার প্রায় ৬৮ হাজার হতদরিদ্র পরিবার তালিকাভুক্ত রয়েছে।

প্রতি বছরের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে এ অঞ্চলে কর্মসংকট দেখা দেয়। সে সময় তালিকাভুক্ত প্রতিটি পরিবার থেকে একজন সদস্য সরকারের ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের আওতায় কাজ পান। সপ্তাহে পাঁচদিন দৈনিক ৪০০ টাকা মজুরিতে তাদের কাজের সুযোগ দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ বছর কর্মসৃজন প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। যে কারণে প্রকল্পের কাজ এখনো শুরু করা যায়নি।

‘বিগত বছরগুলোতে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই বরাদ্দ চলে এসেছিল। এ বছর বরাদ্দ পাওয়া যাবে কি না, সে ব্যাপারেও আমি নিশ্চিত নই,’ প্রশ্নের জবাবে বলেন তিনি।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ