ঢাকার লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানার ইসলামপুর এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীর থেকে সব ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য সম্পূর্ণ অপসারণে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
ভবিষ্যতে সেখানে কেউ যেন প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলতে না পারে, সেজন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে এবং আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
জনস্বার্থে দায়ের করা একটি রিট পিটিশনের সম্পূরক আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এই নির্দেশ দেন।
শুনানি চলাকালে বিআইডব্লিউটিএ একটি প্রতিবেদন জমা দিয়ে আদালতকে জানায়, নদীর তীর থেকে প্রায় ৩০০ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।
সব প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে কি না বা এলাকায় ভবিষ্যতে বর্জ্য ফেলা রোধে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
রিটকারী প্রতিষ্ঠান হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি আদালতকে বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সব বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে, প্রতিবেদনে এটি নিশ্চিত করা হয়নি।
ভবিষ্যতে বর্জ্য ফেলা বন্ধের জন্য কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কথাও এতে উল্লেখ করা হয়নি। তিনি যুক্তি দেন, প্রতিবেদনটি গ্রহণযোগ্য নয়।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান এবং তা নথিতে রাখার নির্দেশ দেন।
আদালত বিআইডব্লিউটিএ এবং অন্যান্য বিবাদীদের আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে প্লাস্টিক বর্জ্য সম্পূর্ণ অপসারণ নিশ্চিত করতে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
২০১০ সালে এইচআরপিবির করা একটি রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ রোধে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
পরে রিটকারীর করা একটি সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ সেপ্টেম্বর আদালত কর্তৃপক্ষকে লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকার ইসলামপুর অংশে নদীর তীর থেকে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দেন।
এইচআরপিবির পক্ষে মোহাম্মদ সারওয়ার আহাদ চৌধুরী এই সম্পূরক আবেদনটি দাখিল করেন।
বিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন নৌপরিবহন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং ঢাকার জেলা প্রশাসকসহ ১৩ জন।
শুনানিতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান।






