সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাম উপসর্গে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ জনে। শুক্রবার বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া শিশুরা হচ্ছেন সাফওয়ান, জিসান ও জায়ান।
গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নতুন করে কারও শরীরে সরাসরি হামের জীবাণু শনাক্ত না হলেও, রোগটির তীব্র উপসর্গ ও জটিলতা নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৯৪ জন সন্দেহভাজন শিশু রোগী ভর্তি হয়েছেন। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভাগের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মোট ৪৩২ জন আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত শিশু আইসোলেশন ও ডেডিকেটেড ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিগত ১০ মাসে সিলেট বিভাগের চার জেলায় মোট ১ হাজার ১১৫ জন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ২০০ শিশুর মধ্যে ১০ জনের শরীরে সরাসরি ল্যাব পরীক্ষায় হামের সংক্রমণ নিশ্চিত ছিল। বাকি ১৯০টি শিশুর মৃত্যু হামের প্রত্যক্ষ শারীরিক লক্ষণ ও পরবর্তীতে সৃষ্ট জটিলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত ছিল বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে হাম থেকে নিউমোনিয়া ও তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা তৈরি হওয়ায় প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ছে।
এমন তথ্য দিয়ে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন থেকে শিশুদের দ্রুত ইপিআই টিকাদানের আওতায় আনা, পুষ্টিকর খাবার প্রদান এবং যেকোনো ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে অনতিবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তরের বিশেষ জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে।



