ভারতের অতীন্ত প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান বিনোদ কাম্বলির সঙ্গে সহকর্মী শচীন টেন্ডুলকার স্কুলজীবনেও পরিচিত ছিলেন। সেই সময় কে বেশি ভালো ক্রিকেটার, তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন এলে কাম্বলির নামই বেশি শোনা যেত। ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেবও কাম্বলির প্রতিভাকে শচীনের চেয়ে বেশি বলে উল্লেখ করেছিলেন। পরবর্তীতে শচীন সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান, আর কাম্বলির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার আশা মতো এগোতে পারেনি।
সাম্প্রতিক একটি ভিডিওবার্তায় কাম্বলি একটি বৃদ্ধাশ্রমের বর্ণনা দিয়েছেন। ভিডিওটি থেকেই জানা যায়, তিনি সেখানে থাকেন এবং কথা বলার সময় স্পষ্ট উচ্চারণে কিছুটা কষ্ট পান। তবে কেন তিনি ওই কেন্দ্রে থাকেন, কতদিন থেকে সেখানে অবস্থান করছেন এবং তার পরিবার বা চিকিৎসা-সম্পর্কিত কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছেন কি না, তা সংবাদে উল্লেখ করা হয়নি। কাম্বলি সেখানের পরিচ্ছন্নতা ও সুবিধার কথা জানাতে দেখা যায় এবং জানান কেন্দ্রটি তার জন্য নিজের বাড়ির মতো অনুভূত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য নিয়ে দাবি ও বিতর্ক
৫৪ বছর বয়সী কাম্বলির স্বাস্থ্য নিয়ে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের দাবি তুলে ওঠা হয়েছে। তাঁর বন্ধু ও প্রাক্তন প্রথম শ্রেণির আম্পায়ার মার্কাস কৌতো দাবি করেন, মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে কাম্বলির স্মৃতিশক্তিতে সমস্যা হচ্ছে। কৌতো ছোট দাবিটিকে ভারতের নিউরোসার্জন ডা. আদিল চাগলার বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করে জানান, কাম্বলি ধূমপান ছাড়লেও মাঝে মাঝে ধূমপান করেন এবং এতে মস্তিষ্কে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গুরুতর মূত্রনালির সংক্রমণের কারণে কাম্বলি মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ডা. চাগলা চিকিৎসা তদারকি করছেন বলে সংবাদে উল্লেখ থাকলেও কাম্বলির স্ত্রী আন্দ্রেয়া হিউইট স্বামীর স্বাস্থ্য নিয়ে ছড়ানো এসব দাবি অস্বীকার করেছেন। তিনি ইন্ডিয়া টুডেকে বলেছেন, ঈশ্বরের কৃপায় বিনোদ ভালো আছেন এবং তার স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল তথ্য কে বা কোথা থেকে ছড়াচ্ছে, তা তিনি জানেন না।
কাম্বলি বয়সভিত্তিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাপক সাফল্যের পর ভারতীয় দলে জায়গা পেতে ছিলেন বলে অনেকে আশা করেছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনি মাত্র ১৭টি টেস্ট ও ১০৪টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। তাঁর প্রাক্তন সহকর্মীর প্রতিভা নিয়ে আলোচনার মধ্যেও পেশাদার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের বাস্তবতা তাকে প্রতিষ্ঠিত সুপারস্টার খেলোয়াড়ে পরিণত হতে দেয়নি। বর্তমানে বৃদ্ধাশ্রমে থাকার খবর তাঁকে আবার সামাজিক মনোযোগের কেন্দ্রে এনেছে।


