শচীন টেন্ডুলকার আর বিনোদ কাম্বলি—দুজনকে একসঙ্গে বুঝতে পারলে চোখ বন্ধ করতে হয়। একই স্কুলে পড়াশোনা করে একই সঙ্গে বেড়ে ওঠা এই দুই প্রতিভার ক্রিকেটজীবন পরে দুই বিভিন্ন মোড়ে ফিরেছে। শচীন এখন সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত। জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে অন্য ঠিকানা খুঁজে বেড়াচ্ছেন কাম্বলি। সাম্প্রতিক একটি ভিডিওবার্তায় জানা গেছে, তিনি এখন একটি বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন।
ভিডিওতে ওই কেন্দ্রের বর্ণনা দেওয়ার সময় কাম্বলির স্পষ্টভাবে কথা বলতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছিল বলে দেখা গেছে। তবে একই ভিডিওতে তিনি সেখানকার পরিচ্ছন্নতা, সুযোগ-সুবিধা এবং ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন। তিনি জানান, কেন্দ্রটিতে থেকে নিজের বাড়ির মতোই অনুভূত হচ্ছে। বয়স ৫৪ বছর হলেও তার মেজাজ ভালো বলে বোঝা যায়। অন্যদিকে, তার স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠছে।
স্বাস্থ্য নিয়ে সম্প্রতি খবর শুনতে পাওয়া যায়। কাম্বলির পুরোনো বন্ধু ও সাবেক ফার্স্ট ক্লাস আম্পায়ার মার্কাস কৌতো দাবি করেন, মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে থাকার কারণে ব্যাটসম্যানটির স্মৃতিশক্তিতে সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, জিনিস মনে রাখার পরেও তিনি সেগুলো ভুলে যান। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গুরুতর মূত্রনালির সংক্রমণের কারণে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কাম্বলি।
কৌতো আরও জানিয়েছেন, কাম্বলি মদ্যপান ছেড়ে দিয়েছেন, তবে মাঝে মাঝে ধূমপান করেন। তাঁর চিকিৎসা তদারকি করা নিউরোসার্জন ডা. আদিল চাগলা ধূমপান নিষিদ্ধ করেছেন বলে জানিয়েছেন, কারণ এতে মস্তিষ্কে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। যদিও এসব দাবি তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে, কাম্বলির স্ত্রী অ্যান্ড্রিয়া হিউইট সেগুলোকে সমর্থন করেননি। তিনি বলেছেন, ঈশ্বরের কৃপায় তার স্বামী ভালো আছেন এবং ভারতে তার স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তাই কাম্বলির বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে কোনো নির্ধারণ করা উচিত নয়।
কাম্বলি ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের অত্যন্ত প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান। বয়াভিত্তিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বড় প্রত্যাশা জাগিয়েছিল। দুর্দান্ত সূচনা করেও ভারতীয় ক্যারিয়ার তেমন প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোনি। টেস্টে ১৭টি এবং ওয়ানডেতে ১০৪টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। ঘরোয়া ভাষায় বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেব বলেছিলেন, স্কুলজীবনে কাম্বলির প্রতিভা শচীনের চেয়েও বেশি ছিল। কিন্তু প্রতিভা ও সম্ভাবনা যেমন অনেক সময় অসম শেষ হয়, কাম্বলির ক্রিকেটজীবনও তেমনই অসম পথে থেমে গেছে।


