বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হয়। উপস্থিত ছিলেন আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা।
আবরারের বাবা ডেইলি বরিশাল-কে জানান, তার ছেলে হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান, যাতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার হন। তিনি আবরার ফাহাদের নামে সেতুটির নামকরণের অনুরোধ করেন। পাশাপাশি আবরারের কবর পাকাকরণ এবং পাশের মসজিদের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান।
আবরারের মা রোকেয়া খাতুন ডেইলি বরিশাল-কে জানান, ‘প্রত্যেক ক্যাম্পাসের ছেলেমেয়েই আমার মতো কোনো না কোনো মায়ের সন্তান। আমি চাই, কোনো ক্যাম্পাসেই যেন আর আগের মতো পরিবেশ ফিরে না আসে। আমার মতো কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়।
আবরার ফাইয়াজ ডেইলি বরিশাল-কে জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট ক্যাম্পাসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান, একই সঙ্গে বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে একটি নতুন হল নির্মাণের দাবি করেন। এছাড়া নতুন প্রজন্মকে আবরার ফাহাদের বিষয় জানাতে পাঠ্যবইয়ে তাঁর ঘটনা অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান। তিনি জুলাই আন্দোলনে নিহতদের তালিকা সরকারের পক্ষ থেকে করা হলেও আবরার ফাহাদের মতো বিভিন্ন সময়ে যাঁরা নিহত হয়েছেন, তাঁদেরও একটি তালিকা করার অনুরোধ করেন।
প্রধানমন্ত্রী ডেইলি বরিশাল-কে জানান, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালত স্বাধীনভাবে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বাস দেন। তিনি সেতুটি নির্মাণের বিষয়ে আশ্বাস দেন, আবরার ফাহাদের নামে সেতুটির নামকরণের প্রতিশ্রুতি দেন এবং মসজিদটির নির্মাণকাজ অবিলম্বে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন। এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এ নিয়ে কাজ চলছে, প্রধানমন্ত্রীর এই কথা।
সাক্ষাৎকালে আবরারের বাবা হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তিনি জানান, মামলার একজন আসামি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর বিষয়টি পরিবারকে জানানো হয়। কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং এখনো গ্রেপ্তার না হওয়া আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে দাবি জানান। সাক্ষাৎকালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরও উপস্থিত ছিলেন।



