নয়াদিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের নজিরবিহীন ধরপাকড়ে শান্তি জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ সহস্রাধিক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছে। সিজেপির নেতা অভিজিৎ দীপক, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও গুরুগ্রাম থেকে আসা ধ্রুব রাঠিসহ প্রায় ১০০০ ব্যক্তিকে শনিবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে রাজধানী দিল্লি, সীমান্তবর্তী সব রাজ্য থেকে তরুণদের দিল্লিতে প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপক শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানটি সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে নামার সঙ্গে সঙ্গেই আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নারী পুলিশ কর্মী তাদের ঘিরে ফেলে। বিমান থেকে নামার আগেই সিজেপি নেতারা ইনস্টাগ্রামে লাইভ শুরু করেন। সেই লাইভ ভিডিওতে পুলিশ ও নেতাদের মধ্যে তুমুল বাগ্বিতণ্ডা দেখা যায়। অভিজিৎ দীপক লাইভে বলেন, ‘গ্রেপ্তার হব জেনেই আমরা দিল্লিতে এসেছি। ভয় পাই না।’ পরে পুলিশ তাকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে। দিল্লি পুলিশও এই আটকের কথা স্বীকার করেছে।
এর আগে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতির সময় গুরুগ্রামের বাসা থেকে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করেছে পুলিশ। দিল্লি না যাওয়ার অনুরোধ অমান্য করায় তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া, আইনজীবীদের একটি প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিতে যাওয়ার সময় সিজেপির আইনি সহায়তাকারী রত্না সিংহকেও সকালে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ১ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দিল্লি পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে সিজেপি এক বিবৃতিতে বলেছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর আগেই নেতাদের আটকে দেওয়া সরকারের পূর্বপরিকল্পিত পদক্ষেপ। এটি নাগরিকদের চলাফেরার স্বাধীনতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংগঠনটি অবিলম্বে তাদের নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে।
সিজেপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি প্রতিহত করতে শুক্রবার রাত থেকেই কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয় রাজধানী দিল্লি। রাজ্যটিতে প্রায় ৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লির অন্তত ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। একাধিক এলাকায় জারি করা হয়েছে ১৪৩ ধারা (নিষেধাজ্ঞা)। অনেক এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। শনিবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত দিল্লিগামী সব মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে লাগাতার মাইকিং করা হচ্ছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ মহল রাজধানী দিল্লির শান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি তাদের কাজে অব্যাহত সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা চেয়ে শনিবার এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি এবং দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠন। এই কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা বলয়নের মধ্যে দিল্লির পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল রয়েছে।



