সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) আয়োজিত বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার বিকেল সিলেট নগর ভবনের সামনে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংবর্ধনা ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সুযোগে রাষ্ট্রপতি বলেন, অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা, রক্তপাত ও সন্তানদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা একটি ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে দীর্ঘকাল লড়াই করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে পেয়েছি। এই গণতন্ত্রকে রক্ষা করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াটাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ ও সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
দেশ পুনর্গঠন ও গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণে অগ্রাধিকার
রাষ্ট্রপতি আরও জানান, আগামী দিনের লড়াই হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করার, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সত্যিকারের বাসযোগ্য আবাসস্থল গড়ে তোলার। বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউছ এমপি এবং রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী এতে বিশেষ অতিথির ভূমিকায় ছিলেন। রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সিলেটের মন্ত্রীদের প্রশংসায় রাষ্ট্রপতির মন্তব্য
সিলেটের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের প্রশংসা জাতে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে অত্যন্ত যোগ্য একজন মানুষকে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি, যার নেতৃত্বে বাংলাদেশের বাণিজ্য সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। আরিফ সাহেবকেও স্বীকৃতি দিয়ে তিনি বলেন, তিনি দীর্ঘদিন সিসিকের মেয়র ছিলেন এবং এখন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের দায়িত্ব পেয়েছেন। বিদেশে বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রমবাজারগুলো পুনরায় খোলার চেষ্টায় তিনি সফল হয়েছেন। সিলেটের সার্বিক উন্নয়নের পথ সুগম করতে প্রধান দুটি মন্তরণালয়ই তাঁদের হাতে রয়েছে।
রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার অঙ্গীকার ও সিলেটের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য
সংবর্ধনার জবাবে রাষ্ট্রপতি আবেগঘন কণ্ঠে রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতি ও বর্তমান নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা ব্যক্ত করে বলেন, আগে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে যেভাবে আপনাদের সঙ্গে কথা বলতাম, এখন সেভাবে পারি না, কারণ তিনি শপথ নিয়েছেন সম্পূর্ণ দল নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন ও কথা বলবেন। তিনি সিলেটকে অত্যন্ত গর্বিত একটি জায়গা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, এখানে হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরান (র.) শুয়ে আছেন, শ্রীচৈতন্য দেবের স্মৃতি সিলেটে রয়েছে। হাছন রাজা, রাধারমন দত্ত, শীতালং শাহ, শাহ আব্দুল করিম, হেমাঙ্গ বিশ্বাসরা এই অঞ্চলেই জন্ম নিয়েছেন। এমএজি ওসমানী, সাইফুর রহমান, এমএ খান, ইলিয়াস আলীর মতো নেতারা এখানে জন্ম নিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি সিলেটের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের গভীর স্মৃতির কথা স্মরণ করে বলেন, সিলেট তাঁর কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি জায়গা। তিনি যখনই সুযোগ পান তখনই সিলেটে আসেন এবং প্রতিবার উষ্ণ আতিথেয়তা পেয়েছেন। তিনি সিলেটের চা বাগানের সারা বিশ্বে খ্যাতি এবং প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে যে বড় অবদান রাখছেন, তার প্রশংসা করেন। সিলেটের মানুষকে একইসঙ্গে শান্তিপ্রিয় ও প্রতিবাদী বলে তিনি অভিহিত করেন। তবে আয়োজকদের বিরুদ্ধে অনাগরিক আচরণ ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে সিসিকের এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট করে সিলেট মহানগর বিএনপি।






