মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

অর্থনীতি ও বাণিজ্য

মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা: জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধিতে ছড়িয়ে পড়ে নিত্যপণ্যের দামের আগুন

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ঢেউয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে চড়া দামে ছড়িয়ে পড়েছে দিশেহারা মানুষের ওপর। আয় না বাড়লেও একের পর এক বাড়ছে মানুষের দৈনিক খরচ, চরম দুর্ভোগে নেমে এসেছে সব শ্রেণি।

রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণসর্বশেষ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা: জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধিতে ছড়িয়ে পড়ে নিত্যপণ্যের দামের আগুন

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, অর্থনৈতিক মন্দা ও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপে এমনিতেই শুষ্ক হয়ে উঠেছে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। আয় বাড়ার সুযোগ না থাকলেও ব্যয়ের বোঝা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সংসারে একের পর এক খরচ কমাতে বাধ্য হচ্ছে পরিবারের মানুষ। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অবস্থা এখন সবচেয়ে নাজুক। বিভিন্ন খাতে খরচ কমিয়ে বাধ্য হয়ে তাদের জীবনযাত্রার মান নিচে নামছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার রোববার রাতে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা দিলে সোমবার থেকে কার্যকর হওয়ার আগেই বাজারে দামের আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

নিত্যপণ্যের দামে উত্তাপ

রাজধানীর একাধিক খুচরা বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিকেজি বেগুন আকার ও মানভেদে ৯০-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা একদিন আগেও ছিল ৮০-১২০ টাকা। প্রতিকেজি শসা সর্বনিম্ন ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; একই শসা রোববার সর্বনিম্ন মাত্র ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। প্রতিকেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা, যা একদিন আগে ছিল সর্বনিম্ন ৮০ টাকা। প্রতি হালি ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়, যা দুই দিন আগেও ছিল মাত্র ৫০ টাকা। প্রতিকেজি তেজপাতা বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৩০০ টাকা; এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৯০-২৪০ টাকা। আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১৮০ টাকায়, যা আগে ১৬০ টাকা ছিল।

আটা, ময়দা ও অন্যান্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি

খুচরা পর্যায়ে বড় দানার মসুর ডাল প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৯৫-১০০ টাকা, যা আগে ছিল ৯০-১০০ টাকা। প্রতিকেজি খোলা আটা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৪৮ টাকা ছিল। পাশাপাশি প্রতিকেজি খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা, যা আগে ৬৫ টাকা ছিল। খোলা পামওয়েল বিক্রি হচ্ছে লিটারপ্রতি ১৭০ টাকায়, যা আগের দিনেও ছিল ১৬৬ টাকা। নিত্যপণ্যের চড়া দামে এমনিতেই দিশেহারা মানুষের সংসারের হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ

নয়াবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে এসেছেন মো. সোহাগ। তিনি যুগান্তরকে জানান, তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ৪২ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন। মা-বাবা, স্ত্রী ও এক ছেলে নিয়ে তাঁর সংসার। খাবার জোগাড় করতে মাসে ৫০ কেজির এক বস্তা চালে ৪ হাজার, ৫ লিটার তেলে এক হাজার, বাসা ভাড়া ১৪ হাজার, সবজি-মাছ-ব্রয়লার মুরগিসহ তরকারি রান্নার উপকরণে ৯ হাজার, গ্যাস সিলিন্ডারে ৩ হাজার, সাবান-ডিটারজেন্ট ও শ্যাম্পুতে ৫০০, মুদি বাজারে ২ হাজার, বিদ্যুৎ বিলে ২ হাজার ও মোবাইল টকটাইমে ৫০০ টাকা খরচ হয়। মা-বাবার হাতে ৫ হাজার টাকা দিলে সব মিলিয়ে খরচ পড়ে ৪১ হাজার টাকা। সংসারের খরচ বহন করতে না পেরে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, সরকার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করলে এতে খাবারসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। কি করব তাই বুঝতে পারছেন না।

সরকারের প্রতিক্রিয়া

নয়াবাজারের মুদি ব্যবসায়ী মো. আমিনুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পণ্যের মূল্য আরও বাড়াতে হবে বলে তাঁর কোনো স্বতঃস্ফূর্ততা নেই। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে বাজার স্থিতিশীল রাখতে জোরদার করা নজরদারি এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা জানান। তবে সাধারণ মানুষের মাঝে এখন গভীর আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে—তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে টিকে থাকাই দায় হয়ে পড়বে। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের সঙ্গে জ্বালানি ব্যয়ের বাড়তি চাপ মিলিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সব শ্রেণি-পেশা ও সাধারণ মানুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, নইলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন আরও বিপর্যস্ত হতে চলবে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, দৈনিক প্রতিদিন। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ