শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬
২৩শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

জনপ্রিয় হচ্ছে জাপানি হোজিচা, মাচার সঙ্গে পার্থক্য কী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাপানি ভাজা সবুজ চা হোজিচা নতুন ট্রেন্ড হিসেবে দেখা যাচ্ছে। মাচার মতো একই চা-গাছ থেকে আসা হলেও প্রক্রিয়াজাতকরণ ও স্বাদে এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২:৫১ পিএমসর্বশেষ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২:৫১ পিএম
জনপ্রিয় হচ্ছে জাপানি হোজিচা, মাচার সঙ্গে পার্থক্য কী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাপানি ভাজা সবুজ চা হোজিচা এখন নতুন ট্রেন্ড হিসেবে দেখা যাচ্ছে। ১৯২০ এর দশকে জাপানের কিয়োতোতে এক স্থানীয় চা ব্যবসায়ীর উদ্যোগে বেঁচে যাওয়া গ্রিন টি পাতার পরিবর্তে ভাজা পাতা ব্যবহার করে তৈরি হওয়া এই চা আজ বিশ্বব্যাপী আলোচিত। উচ্চারণ 'হো-জি-চা' বলে পরিচিত, হোজিচা সাধারণ গ্রিন টির মতো বাষ্পে প্রক্রিয়াজাত না হয়ে শুকনো অবস্থায় ভেজে তৈরি করা হয়।

ডেইলি বরিশাল-কে জানান, হোজিচা ক্যামেলিয়া সিনেসিস চা-গাছ থেকেই তৈরি হয়, তবে ভাজা বা রোস্ট করার কারণে এর রং সবুজ না হয়ে লালচে-বাদামি হয়ে যায়। সাধারণত এটি চা পাতা হিসেবে পান করা হয়, তবে বর্তমানে এর গুঁড়াও জনপ্রিয়। এই গুঁড়ো দিয়ে হোজিচা লাটে, বিভিন্ন মিষ্টান্ন ও অন্যান্য পানীয় তৈরি করা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের জানান, হোজিচায় ক্যাফেইনের পরিমাণ অন্যান্য গ্রিন টি বা কফির তুলনায় অনেক কম। এক কাপ হোজিচায় সাধারণত ৭ থেকে ২০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে, যা চা তৈরির পদ্ধতি, ব্যবহৃত পাতা ও প্রস্তুতকারকের ওপর নির্ভর করে। কম ক্যাফেইনের কারণে অনেকে দিনের শেষভাগেও এটি পান করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তবে অতিরিক্ত গ্রহণে উদ্বেগ বা ঘুমের সমস্যা হতে পারে।

সাংবাদিকদের জানান, হোজিচায় গ্রিন টির মতো বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে ক্যাটেচিন ও পলিফেনল উল্লেখযোগ্য। কিছু গবেষণায় ক্যাটেচিনের সঙ্গে রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সম্ভাব্য উপকারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। পলিফেনল শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে। চা ভাজার সময় পাইরাজিন নামের কিছু যৌগ তৈরি হয়, যা শিথিলতা ও রক্তসঞ্চালন ভালো হয়েয়ে আসার সঙ্গে যুক্ত।

হোজিচায় এল-থিয়ানিন নামের একটি অ্যামাইনো অ্যাসিডও রয়েছে, যা মনোযোগ বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এসব সম্ভাব্য উপকার মানেই হোজিচা কোনো রোগের চিকিৎসা করে, এমন দাবি করা যায় না। পরিমিত পান করাই ভালো।

হোজিচার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি হলো এর স্বাদ। সাধারণ গ্রিন টির মতো তীব্র তেতো স্বাদ না থাকায় এটি সহজে পছন্দ হয়ে যায়। শুকনো অবস্থায় ভাজা হওয়ার কারণে হোজিচায় পাওয়া যায় বাদাম ভাজার মতো ঘ্রাণ, ক্যারামেলের মতো স্বাদ, হালকা মাল্টের স্বাদ এবং কখনো কখনো কফির মতো অনুভূতি।

ডেইলি বরিশাল-কে জানান, হোজিচা তৈরি করা বেশ সহজ। একটি পাত্রে ১–২ চা-চামচ হোজিচা চা-পাতা নিন, তার ওপর সদ্য ফুটানো গরম পানি ঢালুন। প্রায় ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট অপেক্ষা করুন, তারপর ছেঁকে কাপে ঢেলে নিন। হোজিচার গুঁড়ো দিয়ে লাটে বানানোও সহজ। প্রথমে একটি কাপে ১–২ চা-চামচ হোজিচা পাউডার ছেঁকে নিন, এর সঙ্গে অল্প গরম পানি মিশিয়ে ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন, যেন দলা না থাকে। চাইলে স্বাদ অনুযায়ী সিরাপ দিতে পারেন। এরপর আলাদা করে দুধ গরম করে সেটি হোজিচার সঙ্গে মিশিয়ে দিন, তাহলেই তৈরি হয়ে যাবে হোজিচা লাটে।

সাংবাদিকদের জানান, হোজিচা এবং মাচার মধ্যে পার্থক্য আসবেই। দুটিই একই চা-গাছ থেকে তৈরি হলেও প্রক্রিয়াজাতকরণ ও স্বাদে রয়েছে বেশ কিছু পার্থক্য। মাচা তৈরি করা হয় ছায়ায় বেড়ে ওঠা চা-পাতা থেকে। পাতা বাষ্পে প্রক্রিয়াজাত করার পর গুঁড়ো করা হয়। মাচার রং উজ্জ্বল সবুজ এবং স্বাদে থাকে ঘাসের মতো, মাটির কাছাকাছি একটি স্বাদ। অন্যদিকে হোজিচা ভাজা বা রোস্ট করা হয়। তাই এর রং লালচে-বাদামি এবং স্বাদে থাকে ভাজা বাদাম, ক্যারামেল ও কিছুটা কফির মতো। ক্যাফেইনের দিক থেকেও দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। হোজিচায় ক্যাফেইনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।

বর্তমানে হোজিচা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নতুন ট্রেন্ড হতে পারে। ক্যাফেতে এর লাটে হয়তো দেখতে আকর্ষণীয়, ছবি তুলতেও সুন্দর। কিন্তু এর গল্প অনেক পুরনো। জাপানে প্রায় একশ বছর ধরে পরিচিত এই চা এখন নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন করে জনপ্রিয় হচ্ছে। মাচার সবুজ রঙের জগতের পাশে হোজিচা নিয়ে এসেছে একেবারে আলাদা একটি স্বাদ ও অভিজ্ঞতা।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ