কুমিল্লার লালমাইয়ে একটি ধানখেত থেকে ১৫ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজন করা সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া জানান। গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক সুমন মেয়েটিকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশ জানায়, বুধবার দিবাগত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার থেকে রেসকোর্স এলাকায় যাওয়ার জন্য অটোরিকশাটি ভাড়া নেন সুমন। অল্প সময়ে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন পথে ঘুরিয়ে সুমন তাসমিনকে জগতপুর গ্রামের ধানখেতে নিয়ে যায়। 'মেয়েটি তখন আতঙ্কিত হয়ে পালানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধর্ষণ এবং পরে মাথা কাদার মধ্যে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন অটোচালক সুমন,' বলেন পঙ্কজ বড়ুয়া।
সুমন পরবর্তী সময়ে তাসমিনের ব্যাগ থেকে আইফোন নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে একটি পুকুরের পাশে আইফোনটি লুকিয়ে চট্টগ্রাম পালিয়ে যায়। শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার হয়ে অটোরিকশাচালক সুমনকে। তার বাড়ি কুমিল্লার জয়নগর এলাকায়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জানায়, মেয়েটি বুধবার দিবাগত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার থেকে রেসকোর্স এলাকায় যাওয়ার জন্য অটোরিকশাটি ভাড়া করে। অল্প সময়ে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন পথে ঘুরিয়ে মেয়েটিকে নিয়ে জগতপুর গ্রামে যায় সুমন। 'মেয়েটি তখন আতঙ্কিত হয়ে পালানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধর্ষণ এবং পরে মাথা কাদার মধ্যে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন অটোচালক সুমন,' বলেন অতিরিক্স পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া।
বৃহস্পতিবার সকালে সড়কের পাশে মেয়েটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে লালমাই থানার পুলিশ কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের ধানখেত থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরীটির মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চার দিন আগে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় তাসমিন। পরে বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে যায় সে। সেখান থেকে বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয়। রাতে কিশোরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেন তার বাবা। কিন্তু সে ফোন ধরেনি। পরে বৃহস্পতিবার ভোরে খবর পেয়ে লালমাই থানায় গিয়ে মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন বাবা।



