শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
২৪শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের মহালয়া ভাষণে বাংলাদেশের পরিচয়ে সমঅধিকারীকরণের আহ্বান

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন মহালয়া ১৪৩৩ উদ্বোধনকালে বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, পরিচয় হবে বাংলাদেশি। তিনি সমঅধিকার, সমান নিরাপত্তা ও সমান মর্যাদার ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতি গঠনের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন এবং প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং সরকারি ছুটির বর্ধিতকরণের কথা উল্লেখ করেন।

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪ পিএমসর্বশেষ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের মহালয়া ভাষণে বাংলাদেশের পরিচয়ে সমঅধিকারীকরণের আহ্বান

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত 'মহালয়া ১৪৩৩' উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমরা এমন এক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই, যেখানে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, পরিচয় হবে বাংলাদেশি। রাষ্ট্রের কাছ থেকে, সমাজের কাছ থেকে এবং সরকারের কাছ থেকে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার, সমান নিরাপত্তা, সমান স্বাধীনতা এবং সমান মর্যাদা পাবেন। নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের এই অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করাই সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।

মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, 'মহালয়া মানেই নতুন আশার আলো, অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়। অন্ধকারকে পেছনে ফেলে আলোর জয় নিশ্চিত করাই এই উৎসবের মূল বার্তা।' তিনি গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনকে সুন্দর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ আয়োজনের জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি আরো বলেন, 'আজ আমরা এমন একটি এলাকায় সমবেত হয়েছি, যা সংসদীয় আসন হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এলাকা। আমরা বিশ্বাস করি, সবাই মিলে সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলব যেখানে ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিন্নতা ছাপিয়ে আমাদের একটাই পরিচয় হবে, আর তা হলো আমরা সবাই বাংলাদেশি।' তিনি সনাতনী সমাজের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ ও শারদীয় দুর্গোৎসবের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন।

তিনি বলেন, 'আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্য কিংবা বিভেদের শিকার হতে হবে না। প্রতিটি মানুষ স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচবেন এবং সমান মর্যাদা নিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় অংশ নেবেন।' দীর্ঘ সময় পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, 'জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখে পূজার সরকারি ছুটি বাড়ানো হয়েছে। আমরা চাই এই উৎসবের আনন্দ একইভাবে সনাতনী সমাজের প্রতিটি মানুষের অন্তরে ছড়িয়ে পড়ুক।' তিনি গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাদের সুসংগঠিত কর্মযজ্ঞের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শ্রী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী তপন কান্তি মজুমদার, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শ্রী অলোক সাহা, সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিনয় গোপাল রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মাহদী আমিন সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতি তার অব্যাহত সমর্থনের কথা তুলে ধরে বলেন, সরকার প্রতিটি উৎসবে সনাতনী সমাজের কল্যাণে কাজ করে চলেছে। তিনি তাদের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল ও আসন্ন দুর্গোৎসবের সাফল্য কামনা করেন এবং বলেন, এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা একটি সুন্দর ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের রূপ কল্পনা করি, যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে এগিয়ে চলবে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ