শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
২৪শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

প্রায় ১৮ লাখ বছর ধরে মানুষের রক্ত খাচ্ছে মশা

নতুন গবেষণা বলছে, মশা প্রায় ১৮ লাখ বছর আগে থেকে মানুষের রক্ত খাওয়া শুরু করেছিল, যা ১৬ থেকে ২৯ মিলিয়ন বছর আগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সুন্ডাল্যান্ড অঞ্চলে ঘটেছিল।

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২:৫২ পিএমসর্বশেষ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২:৫২ পিএম
প্রায় ১৮ লাখ বছর ধরে মানুষের রক্ত খাচ্ছে মশা

নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, মশা প্রায় ১৮ লাখ বছর আগে থেকে মানুষের রক্ত খাওয়া শুরু করেছিল, যা ১৬ থেকে ২৯ মিলিয়ন বছর আগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সুন্ডাল্যান্ড অঞ্চলে প্রথম ঘটেছিল।

সাউথ-ইস্ট এশিয়া থেকে সংগ্রহ করা লিউকোসফাইরাস গোষ্ঠীর ১১ প্রজাতির ৩৮টি মশার ডিএনএ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এই তথ্য জানতে পেরেছেন। কম্পিউটার মডেলের সাহায্যে তাঁরা মশাগুলোর দীর্ঘ সময়ের বিবর্তন ও জিনগত পরিবর্তনের ইতিহাস খুঁজে দেখেন এবং আবিষ্কার করেন যে এই গোষ্ঠীর মশাদের মধ্যে একবারই মানুষের রক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, সেটি হয়েছিল ২৯ থেকে ১৬ মিলিয়ন বছর আগে।

গবেষকরা জানান, এত দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের রক্ত খাওয়ার জন্য মশার শরীরে ধীরে ধীরে জিনগত পরিবর্তন ঘটেছে, যার মাধ্যমে তারা মানুষের শরীরের গন্ধ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এই পরিবর্তনটি সম্ভবত সুন্ডাল্যান্ড অঞ্চলে (বর্তমান বোর্নিও, জাভা, মালয় উপদ্বীপ ও সুমাত্রা) ঘটেছিল।

এর আগে, মশারা আশপাশের অন্যান্য প্রাইমেটের রক্ত খেত। গবেষকদের ধারণা, প্রায় ১.৮ মিলিয়ন বছর আগে হোমো ইরেক্টাস ওই অঞ্চলে পৌঁছানোর পর ধীরে ধীরে মশার খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসে। আধুনিক মানুষ ওই অঞ্চলে পৌঁছায় আরও অনেক পরে, প্রায় ৬৩ হাজার থেকে ৭৬ হাজার বছর আগে। অর্থাৎ, মানুষের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে মশার এই সম্পর্ক শুরু হয়েছিল আধুনিক মানুষের আবির্ভাবের বহু আগেই।

মশা মানুষের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাণী, এসব ক্ষুদ্র প্রাণীটির কারণে প্রতিবছর ৬ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ম্যালেরিয়া ছড়ানো পাশাপাশি মশার লালার মাধ্যমে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস, ডেঙ্গু ও বিভিন্ন ধরনের এনসেফালাইটিসের মতো বিপজ্জনক রোগও ছড়ায়। তবে সব মশা মানুষের রক্ত খায় না। প্রায় ৩ হাজার ৫০০ প্রজাতির মশার মধ্যে তুলনামূলক অল্প কিছু প্রজাতি মানুষের জন্য বিপজ্জনক।

গবেষকদের মতে, মশার বিবর্তনের ইতিহাস জানার মাধ্যমে কেবল মশা নয়, মানুষের পূর্বপুরুষদের বিকাশ ও এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার ইতিহাসও আরও ভালোভাবে বোঝা সম্ভব। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো অঞ্চলে, যেখানে মানুষের প্রাচীন জীবাশ্মের প্রমাণ তুলনামূলকভাবে কম।

সাংবাদিকদের জানান, এই গবেষণাটি সায়েন্সটিফিস রিপোর্ট সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে, যা মশা ও প্রাচীন মানুষের মিথস্ক্রিয়ার গভীর সম্পর্ককে আলোকিত করেছে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ